আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হার্ডড্রাইভে পরিবর্তন আনার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সামনে এনেছেন প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, যদিও তিনি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির সদস্য নন, তবুও দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে তিনি জেনেছেন যে সিসিটিভি সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত কিছু হার্ডড্রাইভে সংযোজন-বিয়োজন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং এ তথ্য কমিটিকে জানানো হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দক্ষ এই প্রসিকিউটর আরও বলেন, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নথি পর্যালোচনায় হার্ডড্রাইভ প্রতিস্থাপনের বিষয়টি দেখা গেছে।
এদিকে, ট্রাইব্যুনালের কয়েকজন প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে, যা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে।
এর আগে এক ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়, যেখানে প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করেন, এক আসামির স্ত্রী ভারী ব্যাগ নিয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীমের কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। ঘটনাটি নিয়ে সে সময় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।
পরে সংশ্লিষ্ট ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ খোঁজার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার কিছুদিন পরই রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে হার্ডডিস্ক পরিবর্তন করা হয়।
রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক নথিতে উল্লেখ আছে, নির্দিষ্ট একটি এনভিআরের হার্ডডিস্ক নষ্ট বা হ্যাকড হওয়ায় দ্রুত সেটি বদলানো হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, সীমান্ত প্রাচীরসংলগ্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ঠিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছিল না বলেই নতুন হার্ডডিস্ক বসানো হয়েছিল। সাধারণত এসব ডিভাইসে সর্বোচ্চ ২১ দিনের ফুটেজ সংরক্ষণ করা যায়।
এ বিষয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, সিসিটিভি ফুটেজ হারিয়ে যাওয়ার কোনো তথ্য কর্তৃপক্ষ দেয়নি। তিনি আরও বলেন, ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেনি এবং এ নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করা ঠিক নয়।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, হার্ডডিস্ক পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত নয়, তবে এটি নিয়ে তদন্ত চলছে।