ঢাকা

ফের নগদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা : বাংলাদেশ ব্যাংক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশ-ব্যাংক বাংলাদেশ-ব্যাংক

মোবাইলে আর্থিক লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’ ফের পুরনো বিতর্কিত গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। হাইকোর্টের আদেশে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া প্রশাসক দল দায়িত্ব হারানোর পর প্রতিষ্ঠানটি আবারও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পূর্বের পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা—যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ জালিয়াতি ও অবৈধ ই-মানি তৈরির অভিযোগ।

শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “আদালতের রায়ের ফলে আমরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি। এর সুযোগে তারা আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে এবং ইতিমধ্যে পদে পদে পরিবর্তন আনছে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেনসিক অডিটে সহযোগিতা করায় নগদের ২৩ জন কর্মকর্তাকে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এর মধ্যে কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। বর্তমান ব্যবস্থাপনায় ফিরেই এই পরিবর্তন শুরু করেন নবনিযুক্ত সিইও মো. সাফায়েত আলম, যিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি।

সাফায়েত আলমকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ ছাড়াও, আরও দুই মামলার আসামিকে বিভিন্ন পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছে। বিষয়টির শুনানি ১৯ মে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী, আদালতের আদেশে তারা আবার নগদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে।

নির্বাচন-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা একটি নিরীক্ষার মাধ্যমে বিশাল আর্থিক অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করেন। উঠে আসে, ভুয়া পরিবেশক ও এজেন্ট দেখিয়ে নগদে তৈরি করা হয়েছে অতিরিক্ত ই-মানি। এতে প্রায় ২ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার গরমিল দেখা যায়। এসব অনিয়ম ঘটেছে সাবেক সরকারের সময়, যখন নগদের পরিচালনায় ছিলেন আওয়ামী লীগের একাধিক সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী ব্যক্তি।

এ ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংক ডাক বিভাগের আটজন সাবেক ও বর্তমান ডিজি, নগদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবেক সিইওসহ মোট ২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরিফ হোসেন খান বলেন, “নগদের আগের পরিচালনায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। সরকার পরিবর্তনের পর আমরা দায়িত্ব নিয়েছিলাম পরিস্থিতি সামাল দিতে। এখন আদালতের আদেশে আবার দায়িত্ব হারিয়েছি। আমরা আদালতের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব ফিরে পেতে চেষ্টা করছি, কারণ জনগণের টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স