ঢাকা

সংসদে তীব্র বক্তব্য: গুমের সঙ্গে জড়িতরা এখনও গুরুত্বপূর্ণ পদে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদে গুম, বিচারব্যবস্থা, ছাত্ররাজনীতি ও রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক স্পর্শকাতর ও বিতর্কিত মন্তব্য উঠে এসেছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য এসব বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মীর আহমাদ বিন কাসেম (আরমান)। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যাঁরা অতীতে গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এখনো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল আছেন। তাঁর দাবি, এসব ব্যক্তি এখনো দেশের ভেতরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন এবং তাঁদের বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে নিজের গুম-অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। একইসঙ্গে গুমের শিকার বিভিন্ন পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে তিনি তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন—গুমের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধে শক্ত আইন প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। পাশাপাশি স্বাধীন গুম কমিশন ও স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

আহমাদ বিন কাসেম আরও অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তাঁরা এখনো প্রভাবশালী কিছু শক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, যারা বর্তমানে ক্ষমতার ভেতরেই সক্রিয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি তাঁদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি নিহত সহকর্মী ওসমান হাদির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো তাদের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেয়।

অন্যদিকে, গুমের শিকার পরিবারগুলোর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনো নিশ্চিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন। তাঁর মতে, বিচার প্রক্রিয়া যেন অতীতের মতো ‘লোক দেখানো নাটকে’ পরিণত না হয়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী ও সাবেক ছাত্রদল সভাপতি শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বর্তমান ছাত্ররাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতা, অস্ত্রের ব্যবহার ও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা নতুন প্রজন্ম গ্রহণ করছে না। তাঁর মতে, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়েও যদি একই ধারা অব্যাহত থাকে, তবে তা তরুণদের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।

তিনি গত জাতীয় নির্বাচনে অর্থের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড–সংক্রান্ত অর্থের উৎস তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

অন্যদিকে, সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গাইবান্ধা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আবদুল ওয়ারেছ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে বিস্তৃত মন্তব্য করেন। তিনি একসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান এবং আবদুল হামিদ খান ভাসানী–এর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন এবং একইসঙ্গে জামায়াতের প্রয়াত কয়েকজন শীর্ষ নেতার প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাঁর এই বক্তব্য সংসদে ভিন্ন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।

গণভোট ইস্যু নিয়েও তিনি বিএনপির সমালোচনা করেন এবং দলটির অবস্থানকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

সব মিলিয়ে সংসদের এই দিনের আলোচনা রাজনৈতিক ইতিহাস, মানবাধিকার, গুমের অভিযোগ, ছাত্ররাজনীতি এবং রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির প্রশ্নে উত্তপ্ত ও বহুমাত্রিক বিতর্কে পরিণত হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স