রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলার ভিত্তিতে জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার (১৯ মে) সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছি যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হয় এবং প্রকৃত অপরাধীরাই গ্রেপ্তার হয়।”
এর আগে, রোববার (১৮ মে) দুপুরে ব্যাংকক যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে নুসরাত ফারিয়াকে বাধা দেওয়া হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত ফারিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। মামলার এজাহারে বলা হয়, আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনায় এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নুসরাত ফারিয়াসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা আন্দোলন দমনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছিলেন।
এদিকে ব্রিফিংয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও সড়কব্যবস্থার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “এবার কোরবানির গরুর গাড়ি কোনোভাবেই রাস্তায় নামাতে দেওয়া হবে না, সরাসরি হাটে প্রবেশ করতে হবে। প্রতিটি হাটে ৭৫ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ঈদের আগে ও পরে তিন দিন এবং রাতে বাল্ক পরিবহন বন্ধ থাকবে।”
তিনি আরও জানান, সব গার্মেন্টস শ্রমিকদের ঈদ বোনাস চলতি মাসের মধ্যেই পরিশোধ করতে হবে এবং ১ জুন থেকে ৩ জুনের মধ্যে বেতন প্রদান সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক দাবিতে রাস্তা অবরোধ না করার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, নুসরাত ফারিয়া ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রে শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করেন। ভারতের বরেণ্য পরিচালক শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চরিত্রে অভিনয় করেন আরিফিন শুভ এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চরিত্রে ছিলেন নুসরাত ইমরোজ তিশা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন এবং বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এরপর একে একে আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতাও দেশত্যাগ করেন।