ঢাকা

১৮’র নির্বাচন প্রহসনের ছিল: সাবেক সিইসি নূরুল হুদার দায় স্বীকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নূরুল হুদা। সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নূরুল হুদা।
২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনে 'রাতের ভোট' আয়োজনের দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ কে এম নূরুল হুদা। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুরে দুই দফায় আট দিনের রিমান্ড শেষে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে তদন্ত সংস্থা পিবিআই। আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমান তা রেকর্ড করেন।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, “আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করেছে, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”

এই মামলায় ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তিন দফা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা তিনজন সিইসি—কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ, এ কে এম নূরুল হুদা ও কাজী হাবিবুল আউয়াল—সহ সংশ্লিষ্ট সময়ের নির্বাচন কমিশনারদের আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া আসামির তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, শহীদুল হক, জাবেদ পাটোয়ারী, বেনজীর আহমেদ ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

২২ জুন শেরে বাংলা নগর থানায় এই মামলা দায়ের করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দলটির মামলা-গুম-খুন তথ্য সমন্বয়ক সালাহ উদ্দিন খান।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে বিএনপি নেতাকর্মীদের 'গায়েবি মামলা', 'গণগ্রেপ্তার', গুম-খুন, নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা হয়। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়েও ‘সংবিধান লঙ্ঘন’, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন’, ‘সরকারি পদে থেকেও ভোটে হস্তক্ষেপ’ ও ‘ভুয়া ফলাফল ঘোষণা’র মতো দণ্ডনীয় অপরাধে জড়িত হয়।

মামলায় রাষ্ট্রদ্রোহ, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিইসি নূরুল হুদাকে মামলার দিনই গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরদিন চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর ২৭ জুন আরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তার পরই মঙ্গলবার এ জবানবন্দি।

এদিকে মামলার আরেক আসামি, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সাবেক প্রধান কাজী হাবিবুল আউয়ালকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাকেও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ মামলায় আরও অনেক সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদেরও তদন্তের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স