কোচ লিওনেল স্কালোনির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের ভারসাম্য বজায় রাখা। দলের তিন অপরিহার্য সদস্যের চোট আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার মিশনকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে।
১. ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (রক্ষণের স্তম্ভ)
লন্ডনে টটেনহাম হটস্পার ও সান্ডারল্যান্ডের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিজের দলের গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কির সাথে ভয়াবহ এক সংঘর্ষের শিকার হন রোমেরো।
অবস্থা: সংঘর্ষের পর ডান হাঁটুতে প্রচণ্ড অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন এই ২৭ বছর বয়সী সেন্টার ব্যাক।
আশঙ্কা: প্রাথমিকভাবে তার লিগামেন্টে বড় ধরনের আঘাতের সন্দেহ করা হচ্ছে। বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্টে যদি লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রমাণ মেলে, তবে তাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হবে, যা বিশ্বকাপের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে।
২. লাওতারো মার্টিনেজ (আক্রমণভাগের মূল ভরসা)
ইন্টার মিলানের এই গোলমেশিনকে নিয়ে দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কিছুদিন আগেই তিনি পেশির চোট থেকে সেরে উঠেছিলেন।
অবস্থা: দুর্ভাগ্যবশত, লাওতারোর পুরনো পেশির ইনজুরি আবারও ফিরে এসেছে।
প্রভাব: স্ট্রাইকার পজিশনে তার বিকল্প হিসেবে যারা আছেন, তারা লাওতারোর মতো ধারাবাহিক নন। ফলে বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস ফিরে পাওয়া আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
৩. এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (পোস্টের নিচে আস্থার প্রতীক)
আর্জেন্টিনার ‘বাজপাখি’ খ্যাত গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে ছিটকে যান।
অবস্থা: ম্যাচ শুরুর আগের ওয়ার্মআপ সেশনের সময় তিনি পেশিতে অস্বাভাবিক টান অনুভব করেন। কোনো ঝুঁকি না নিতে কোচ তাকে মূল একাদশ থেকে সরিয়ে নেন।
উদ্বেগ: এমিলিয়ানোর অনুপস্থিতি কেবল পোস্টের নিচেই নয়, দলের মানসিক শক্তিতেও বড় প্রভাব ফেলে।
স্কালোনির পরিকল্পনা কী হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (AFA) তাদের চিকিৎসকদের ইউরোপে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে এই তিন তারকাকে পুরোপুরি ফিট করে তোলা না গেলে ব্যাক-আপ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করা ছাড়া স্কালোনির কাছে কোনো পথ থাকবে না।
আর্জেন্টাইন ভক্তদের এখন একটাই প্রার্থনা—নির্ধারিত সময়ের আগেই যেন তাদের প্রিয় তারকারা মাঠে ফিরতে পারেন।