লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত দুই বছরে এমন এক সামরিক ও সাংগঠনিক সংকটের মধ্য দিয়ে গেছে, যা একসময় সংগঠনটির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল। শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত, যোগাযোগব্যবস্থায় নজিরবিহীন হামলা, সামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি এবং ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী বিমান ও স্থল অভিযানে হিজবুল্লাহ কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সংগঠনটির ওপর একের পর এক আঘাতের পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে হিজবুল্লাহর কমান্ডারদের নিজেদের মধ্যেই যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। ইসরায়েলি হামলায় সংগঠনের প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হন। এর আগে হাজারো পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় হিজবুল্লাহর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ্যে আসে।
তখন অনেকের ধারণা ছিল, হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা আর পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে না। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ থেকেই সংগঠনটি নতুন কাঠামো ও কৌশল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই হিজবুল্লাহর ঘুরে দাঁড়ানোর এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ সূত্র, লেবাননের রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও কয়েকজন আরব কূটনীতিকসহ সাতজনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের অধিকাংশই পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে নিজেদের বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁদের বর্ণনায় উঠে এসেছে হিজবুল্লাহর সামরিক পুনর্গঠন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক, অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধকৌশলের নানা দিক।
নাসরুল্লাহ হত্যার পর চরম সংকট
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হিজবুল্লাহর সদর দপ্তরে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। একাধিক বোমা হামলায় সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। নিহত হন হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা।
হিজবুল্লাহর অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোর ধারণা ছিল, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা সংগঠনের যোগাযোগব্যবস্থায় ব্যাপকভাবে অনুপ্রবেশ করেছে। নেতাদের অবস্থান, চলাফেরা এবং বৈঠকের তথ্য কীভাবে ইসরায়েলের হাতে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে হিজবুল্লাহর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর কিছুদিন আগেই পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের ঘটনা সংগঠনটির সেই আশঙ্কাকে আরও তীব্র করে তোলে। ২০২৪ সালের ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিক বিস্ফোরণে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত হাজারো যোগাযোগযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে বহু মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হন।
এই পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর বেঁচে থাকা কমান্ডাররা মুঠোফোন ব্যবহার প্রায় বন্ধ করে দেন। অনেকেই মোটরসাইকেল ও স্কুটারে চলাচল শুরু করেন। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের হারেত হরেইক, শিয়াহসহ দাহিয়েহ এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাঁরা ছোট ছোট দলে জড়ো হতে থাকেন।
কমান্ডারদের আশঙ্কা ছিল, ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হতে পারে। ফলে সংকটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামনাসামনি যোগাযোগই হয়ে ওঠে তাঁদের প্রধান ভরসা।
বেকারি, ব্যাংকের শাখা কিংবা মুঠোফোনের দোকানের মতো সাধারণ জায়গাতেও তাঁরা দেখা করতেন। উদ্দেশ্য ছিল দুটি—একদিকে সংগঠনকে দ্রুত পুনর্গঠন করা, অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সম্ভাব্য স্থল অভিযান মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়া।
এভাবেই হিজবুল্লাহর পুনর্গঠনের প্রথম অধ্যায় শুরু হয়।
২০২৩ সালের হামলা নিয়ে ভেতরে ভেতরে প্রশ্ন
মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাষ্য, সংগঠনের অনেক যোদ্ধা এখন মনে করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার সিদ্ধান্তটি ছিল বড় ধরনের ভুল।
তিনটি সূত্রের দাবি, ওই সিদ্ধান্ত সরাসরি হাসান নাসরুল্লাহর কাছ থেকে এসেছিল। এমনকি হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চ নির্বাহী পরিষদ শুরা কাউন্সিলের মধ্যেও এ নিয়ে ভিন্নমত ছিল বলে তাঁরা জানান।
ইসরায়েলি আর্মি রেডিও সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে হামাস ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সমন্বিত হামলা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হাতে আসা বলে দাবি করা কিছু নথির উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহকে আকস্মিক ও সমন্বিত হামলায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
তবে হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাওয়াফ মুসাওয়ি এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এসব প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
তবে পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা হিজবুল্লাহর কয়েকজন যোদ্ধা মনে করেন, ইসরায়েলি প্রতিবেদনের কিছু অংশে সত্যতা থাকতেও পারে।
‘ইউনিটি অব ফ্রন্টস’ ও ইরানের কৌশল
হিজবুল্লাহর সামরিক কৌশল বুঝতে হলে ইরান ও তার মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বৃহত্তর আঞ্চলিক কাঠামোর দিকে তাকাতে হয়।
বছরের পর বছর ধরে ইরান ও তার নেতৃত্বাধীন ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ নামে পরিচিত জোট ইসরায়েলকে বিভিন্ন দিক থেকে চাপে রাখার একটি কৌশল গড়ে তুলেছিল। এই কৌশলকে অনেক সময় ‘ইউনিটি অব ফ্রন্টস’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
এই কৌশলের অন্যতম প্রধান স্থপতি ছিলেন ইরানের কুদস ফোর্সের প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি এবং হিজবুল্লাহর তৎকালীন প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ।
সোলাইমানি ইরানের মিত্র বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সমন্বয় করতেন। ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে ইয়েমেনের হুতিদের মতো বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নাসরুল্লাহর সঙ্গে তাঁর সমন্বয় ছিল এই আঞ্চলিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ২০১২ সালের একটি ঘটনা উল্লেখ করে জানায়, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে ইরানের মিত্র বাশার আল-আসাদ সরকারকে সমর্থন করার জন্য হিজবুল্লাহকে সিরিয়ায় পাঠানোর বিষয়ে সোলাইমানি নাসরুল্লাহর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
এই সমন্বয় পরবর্তী এক দশকে হিজবুল্লাহ ও ইরানের আঞ্চলিক কৌশলের অন্যতম ভিত্তিতে পরিণত হয়।
সোলাইমানির মৃত্যুতে বড় পরিবর্তন
২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। হিজবুল্লাহ ও ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য এটি ছিল বড় ধাক্কা।
সোলাইমানির মৃত্যুর পর ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর সমন্বয় কাঠামো আগের মতো কার্যকর রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, এর প্রভাব ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পরও দেখা যায়।
তাঁদের দাবি, হামাসের হামলার পর ইরানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বৈরুতে গিয়ে নাসরুল্লাহকে জানিয়েছিলেন, তেহরান গাজা যুদ্ধের ক্ষেত্রে নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দিতে প্রস্তুত থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক ছিল।
নাসরুল্লাহও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সরাসরি হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। ফলে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সীমিত পরিসরে হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তবে তাঁর কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে যাওয়ার প্রস্তুতি না থাকলে সীমিত সংঘাতে জড়ানো বিপজ্জনক।
সীমান্তযুদ্ধ থেকে পূর্ণাঙ্গ সংঘাত
এরপর প্রায় এক বছর ধরে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণে সংঘাত ক্রমেই তীব্র হয়।
জাতিসংঘের নির্ধারিত ‘ব্লু লাইন’ ঘিরে সংঘাতের বিস্তার ঘটে। এতে লেবাননে প্রাণহানি ছিল অনেক বেশি। একই সময়ে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল থেকেও বিপুলসংখ্যক বাসিন্দাকে সরিয়ে নিতে হয়।
শুরুতে উভয় পক্ষই এক ধরনের অলিখিত সীমার মধ্যে থাকার চেষ্টা করেছিল। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় হামলা হলে তার জবাব ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরে দেওয়া হবে।
কিন্তু ধীরে ধীরে সেই সীমা ভাঙতে থাকে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দাহিয়েহ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা সালেহ আল-আরুরি নিহত হন।
এর জবাবে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের মাউন্ট মেরন সামরিক ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালায়। সংগঠনটির সূত্রগুলোর দাবি, হামলাটি তেল আবিবের মতো বড় শহরের পরিবর্তে একটি সামরিক স্থাপনায় সীমিত রাখা হয়েছিল, কারণ নিহত আল-আরুরি ছিলেন ফিলিস্তিনি নাগরিক।
কয়েক মাস পর হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ফুয়াদ শুকুরও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তাঁর হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে বড় ধরনের রকেট হামলার প্রস্তুতি নিলেও ইসরায়েল আগেই হিজবুল্লাহর বেশ কিছু উৎক্ষেপণস্থলে হামলা চালায়।
এরপর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণ: নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধাক্কা
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পেজার ও ওয়াকিটকি বিস্ফোরণের ঘটনা হিজবুল্লাহর জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বিপর্যয়গুলোর একটি হয়ে ওঠে।
১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর ধারাবাহিক বিস্ফোরণে বহু মানুষ হতাহত হন। হিজবুল্লাহর যোগাযোগব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অচল হয়ে যায়। সংগঠনটির সূত্রগুলোর মতে, ওয়াকিটকিগুলো মাঠপর্যায়ের যোদ্ধাদের মধ্যে বেশি ব্যবহৃত হতো, আর পেজারের ব্যবহার ছিল তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত।
ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে এই অভিযানের যোগসূত্রের কথা ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও এর বিস্তারিত বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।
হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ইসরায়েল তাদের যোগাযোগব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিল। সংগঠনটি যখন বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন ইসরায়েল আগেভাগেই হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই ঘটনার পর হিজবুল্লাহর কমান্ড কাঠামো কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় চলে যায়।
নেতৃত্বের ওপর একের পর এক আঘাত
এরপর প্রায় ৬৬ দিন ধরে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান ও স্থল অভিযান চালায়।
এই সময়ে হাসান নাসরুল্লাহ ছাড়াও সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হাশেম সাফিউদ্দিন, রাদওয়ান ফোর্সের কমান্ডার ইব্রাহিম আকিলসহ সামরিক নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হন।
হিজবুল্লাহর বিভিন্ন ইউনিট ও অস্ত্রভান্ডারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সংগঠনটির প্রচলিত কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
তবে দক্ষিণ লেবাননে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন ইউনিটের মাধ্যমে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে। এসব ইউনিটের অনেক যোদ্ধাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর আঘাতের পূর্ণ মাত্রা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
হিজবুল্লাহর সূত্রগুলোর দাবি, এই বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরোধই সংগঠনটিকে পুরোপুরি ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে।
যুদ্ধবিরতি ও ‘টিকে থাকার’ কৌশল
যুদ্ধবিরতির পর হিজবুল্লাহর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায় সংগঠনটির অস্তিত্ব ধরে রাখা।
এ সময় সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনও হিজবুল্লাহকে আরও কঠিন অবস্থায় ফেলে। আসাদ সরকারকে সমর্থন দিতে এক দশক ধরে সিরিয়ায় সামরিকভাবে সক্রিয় ছিল সংগঠনটি। সিরিয়ার পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যায়।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহর সশস্ত্র উপস্থিতি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে লেবাননের ভেতর থেকেও সংগঠনটিকে আরও উত্তরে সরিয়ে নেওয়ার দাবি ওঠে।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর মতে, এসব দাবি সংগঠনটির মধ্যে আরও কঠোর অবস্থান তৈরি করে। তাঁদের বক্তব্য, মূল যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা হলে রাজনৈতিক সমঝোতার সুযোগ কমে যায়।
সামরিক কাঠামোয় বড় পুনর্গঠন
বাইরে থেকে দেখে মনে হতে পারে, যুদ্ধবিরতির সময় হিজবুল্লাহ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল। কিন্তু সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, এই সময়েই তারা সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক পুনর্গঠন শুরু করে।
হিজবুল্লাহর সামরিক কাঠামো আগে ছিল তুলনামূলকভাবে বড় ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত। ধারাবাহিক হামলায় সেই কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ পায়।
এরপর প্রতিটি ইউনিটকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। লক্ষ্য ছিল, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও স্থানীয় ইউনিটগুলো যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে প্রয়াত হিজবুল্লাহ কমান্ডার ইমাদ মুগনিয়াহর গেরিলা যুদ্ধের ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ছিল—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় পর্যায়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা।
অর্থাৎ, ২০২৪ সালের বিপর্যয় হিজবুল্লাহকে একটি অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় সামরিক কাঠামো থেকে তুলনামূলকভাবে বিকেন্দ্রীভূত কাঠামোর দিকে ঠেলে দেয়।
আত্মরক্ষা থেকে নতুন আক্রমণাত্মক সক্ষমতা
পরবর্তী সময়ে হিজবুল্লাহর কৌশলে আরও একটি পরিবর্তন দেখা যায়। সংগঠনটি বড় আকারের সম্মুখযুদ্ধের পরিবর্তে ছোট ইউনিট, দ্রুত আঘাত এবং প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতার ওপর বেশি জোর দিতে শুরু করে।
এখানে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ইউক্রেন যুদ্ধের মতো বিভিন্ন সংঘাতে ড্রোনের ব্যবহার সামরিক কৌশলে বড় পরিবর্তন এনেছে। হিজবুল্লাহও সেই প্রযুক্তিকে নিজেদের যুদ্ধকৌশলের অংশ হিসেবে গ্রহণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিশেষ করে ফার্স্ট-পারসন ভিউ বা এফপিভি ড্রোনের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এসব ড্রোন তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়ে পরিচালনা করা যায় এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এ ধরনের ড্রোনকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, লেবাননের তরুণ গেমারদের একটি অংশকে ড্রোন পরিচালনার দক্ষতা অর্জনের জন্য কাজে লাগানো হচ্ছে। ভিডিও গেমে অর্জিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া ও ভার্চ্যুয়াল পরিবেশে লক্ষ্য নির্ধারণের দক্ষতা বাস্তব ড্রোন পরিচালনায় কাজে লাগতে পারে বলে সংগঠনটির অভ্যন্তরে ধারণা তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে হিজবুল্লাহ
২০০৬ সালের যুদ্ধের সময় হিজবুল্লাহর করনেট অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি ইসরায়েলি সাঁজোয়া বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছিল।
পরবর্তী সময়ে সংগঠনটি আরও উন্নত প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহারের দিকে যায়। এর মধ্যে আলমাস-১ ক্ষেপণাস্ত্র অন্যতম।
ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তিনির্ভর এই অস্ত্রকে হিজবুল্লাহর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েলের স্পাইক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে আলমাস তৈরি করা হয়েছে।
ফাইবার-অপটিক প্রযুক্তির আরেকটি সুবিধা হলো, প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম পড়তে পারে।
এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে পরবর্তী সময়ে ড্রোন ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত করা হচ্ছে বলে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ফলে সংগঠনটির সামরিক পুনর্গঠনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠছে কম খরচের প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্র এবং বিকেন্দ্রীভূত যুদ্ধকৌশলের সমন্বয়।
আগের হিজবুল্লাহ আর নেই
২০২৬ সালের আগস্টে এসে হিজবুল্লাহ নিঃসন্দেহে আগের তুলনায় অনেক দুর্বল।
সংগঠনটির যোদ্ধা, শীর্ষ নেতৃত্ব, অস্ত্রভান্ডার ও অবকাঠামোতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গত দুই বছরে কতজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন, তার নির্ভরযোগ্য আনুষ্ঠানিক হিসাব নেই। সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিহতের সংখ্যা কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করছে।
তবে সামরিক সক্ষমতা কমে গেলেও সংগঠনটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, ২০২৩ সালের হিজবুল্লাহ আর ২০২৬ সালের হিজবুল্লাহ এক নয়। একসময় সংগঠনটির বিশাল রকেটভান্ডার, সীমান্তজুড়ে শক্তিশালী অবস্থান এবং বিস্তৃত আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা ছিল। এখন সেই সক্ষমতার বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত।
আগে গ্যালিলি অঞ্চলে প্রবেশের মতো উচ্চাভিলাষী সামরিক পরিকল্পনার কথা বলা হলেও এখন হিজবুল্লাহর প্রধান লক্ষ্য অনেক বেশি প্রতিরক্ষামূলক—লেবাননকে রক্ষা করা।
এই পরিবর্তনই সংগঠনটির বর্তমান কৌশলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
নাঈম কাসেমের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়
হাসান নাসরুল্লাহর মৃত্যুর পর নাঈম কাসেম হিজবুল্লাহর মহাসচিব হন। শুরুতে অনেকেই তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।
নাসরুল্লাহর মতো ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব নাঈম কাসেমের নেই। আবার হাশেম সাফিউদ্দিনের মতো ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রভাবও তাঁর ছিল না।
তবু সবচেয়ে কঠিন সময়ে সংগঠনটির নেতৃত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে তিনি সক্ষম হয়েছেন বলে হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি।
এ বছরের শুরুর দিকে নাঈম কাসেম সংগঠনটির অভ্যন্তরে বড় ধরনের পুনর্গঠন করেন। কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে পেছনের সারিতে সরিয়ে দিয়ে নিজের নেতৃত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি কাঠামো গড়ে তোলেন।
হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, নাঈম কাসেম দেখিয়েছেন, তিনি শুধু সংগঠন ধরে রাখতেই সক্ষম নন; প্রয়োজন হলে পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করেও ঐক্য ধরে রাখতে পারেন।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাওয়াফ মুসাওয়ির বক্তব্যও সংগঠনটির দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের ধারণাটিকে স্পষ্ট করে। তাঁর মতে, একজন নেতা নিহত হলে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা হিজবুল্লাহর কাঠামোর অংশ।
তাঁর ভাষায়, প্রথম প্রজন্মের নেতারা নিহত হয়েছেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের অনেক নেতাও নিহত হয়েছেন, তবু সংগঠনের প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এখন কোন পর্যায়ে
হিজবুল্লাহ দুর্বল হওয়ার পর ইরানের ভূমিকা আরও বেড়েছে—এমন ধারণা থাকলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে।
তাঁদের মতে, মাঠপর্যায়ে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইরানি উপদেষ্টাদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বরং কমেছে। এর অন্যতম কারণ সিরিয়ার রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ও যাতায়াতব্যবস্থায় বাধা।
তবে রাজনৈতিক ও কৌশলগত পর্যায়ে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় এখনো শক্তিশালী বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ অনেকটাই ইরানের সঙ্গে যুক্ত—এমন ধারণাও রয়েছে। বিশেষ করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতের ধরন লেবানন ও হিজবুল্লাহর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তেহরান লেবাননকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হিসেবে দেখতে চাইলেও লেবাননের অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
লেবাননের রাজনীতিতে বাড়ছে চাপ
হিজবুল্লাহর সামরিক দুর্বলতার সঙ্গে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও বদলাচ্ছে।
হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। দেশটির পার্লামেন্টে সংগঠনটির শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।
কিন্তু সাম্প্রতিক সংঘাতের পর রাষ্ট্র ও হিজবুল্লাহর সম্পর্ক আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের মার্চে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হিজবুল্লাহর হামলার পর লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম সংগঠনটির সামরিক তৎপরতা নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ও আলোচনার বিষয়ে উদ্যোগী হন।
এতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়েছে।
একই সময়ে হিজবুল্লাহর ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে—সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে আগের কাঠামো ধরে রাখা হবে, নাকি আরও বেশি রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত হওয়া হবে।
এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য
হিজবুল্লাহর বর্তমান অবস্থাকে এক কথায় ব্যাখ্যা করা কঠিন। সামরিকভাবে সংগঠনটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ হারিয়েছে। অস্ত্র ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থাও আগের তুলনায় জটিল।
কিন্তু একই সঙ্গে সংগঠনটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েনি।
বরং বিপর্যয়ের পর তারা যে পরিবর্তনের পথে গেছে, তার মূল বৈশিষ্ট্য হলো—কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ওপর নির্ভরতা কমানো, ছোট ইউনিটকে বেশি স্বাধীনতা দেওয়া, প্রযুক্তিনির্ভর অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং সরাসরি বড় আকারের যুদ্ধের পরিবর্তে সীমিত ও দ্রুত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
এটি আগের হিজবুল্লাহর তুলনায় অনেক বেশি প্রতিরক্ষামূলক ও বিকেন্দ্রীভূত কাঠামো।
মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলোর বর্ণনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ধ্বংসযজ্ঞের পর হিজবুল্লাহর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল—তারা আদৌ টিকে থাকবে কি না। এখন সেই প্রশ্নের উত্তর অন্তত আংশিকভাবে পাওয়া গেছে।
হিজবুল্লাহ টিকে আছে। তবে আগের অবস্থায় নয়।
একসময় যে সংগঠন নিজেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল, এখন তারা অনেক বেশি সতর্ক, বিকেন্দ্রীভূত ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি সামরিক কাঠামো গড়ে তুলছে। তাদের লক্ষ্যও বদলেছে—আঞ্চলিক উচ্চাভিলাষের পরিবর্তে লেবাননের ভেতরে নিজেদের অস্তিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব ধরে রাখা।
তবে এই পুনর্গঠন কতটা কার্যকর হবে, ইসরায়েলের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংঘাতে হিজবুল্লাহ কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে এবং লেবাননের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কোন দিকে যাবে—সেসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত।
নিশ্চিত শুধু একটি বিষয়: ২০২৪ সালের ধ্বংসস্তূপে যে হিজবুল্লাহকে প্রায় শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করা হয়েছিল, সেই সংগঠনটি এখন নতুন কাঠামো ও নতুন যুদ্ধকৌশল নিয়ে আবারও নিজেকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।