ঢাকা

থাড সরানো হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে, ইরান মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হুমকির প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা-এর কিছু অংশ সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোকে উদ্ধৃত করে জানা গেছে, জর্ডানে থাকা থাড রাডার ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় প্রথমবার থাড দক্ষিণ কোরিয়ায় স্থাপন করা হয়। সেই সময় এই পদক্ষেপকে নিন্দা জানায় চীন, স্থানীয় জনগণও প্রতিবাদ করে। থাড ব্যবস্থার প্রতিটি ব্যাটারিতে ছয়টি লঞ্চার, প্রতিটি লঞ্চারে আটটি ইন্টারসেপ্টর এবং লক্ষ্য শনাক্তের জন্য একটি রাডার থাকে। এটি ‘হিট-টু-কিল’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী মাত্র আটটি থাড ব্যাটারি রয়েছে, যার দুটি মধ্যপ্রাচ্যে—জর্ডান ও ইসরায়েলে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কাছে যৌথভাবে আরও তিনটি অবস্থান করছে। এই ব্যবস্থাগুলো পরিচালনায় প্রায় ১০০ জন কর্মীর প্রয়োজন হয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় থাডের সরানোকে ‘সতর্কতামূলক পদক্ষেপ’ বলা হলেও, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সেখানে ইতিমধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাপক ব্যবহার হয়েছে এবং ঘাটতি পূরণের প্রয়োজন রয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং স্বীকার করেছেন, দেশের বাইরে থাড সরানোর বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছে। চীনের প্রতিক্রিয়া এখনও স্থির; চীন বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় থাড নিয়ে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত। ২০১৭ সালে থাড স্থাপনের সময় চীন উদ্বেগ জানিয়েছিল যে, এটি তাদের নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান হামলার জবাবে ইরান ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে আসছে। নিউইয়র্ক টাইমসের হিসাব অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যেই ৫০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থানে প্রতিরক্ষা সামর্থ্য সীমিত করতে পারে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন নিলসন-রাইট এবং ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক ইয়ান চং মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণে চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে থাড সরানো চীনের জন্য আংশিক স্বস্তি দেবে, এটি স্থায়ী নয়। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ছোটখাটো পরীক্ষা চালানোর সম্ভাবনা এখনও রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে থাডের গুরুত্ব, ইরানের ক্রমবর্ধমান হুমকি, এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে সরানো এই ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স