ঢাকা

‘অভ্যুত্থান রক্ষার উপযোগী রাজনৈতিক শক্তি’ গড়তে চায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং নতুন বাংলাদেশের উপযোগী টেকসই রাজনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘অভ্যুত্থান রক্ষার উপযোগী দল’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। সংগঠনটির পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে নেতারা এই রাজনৈতিক লক্ষ্য ও সাংগঠনিক প্রত্যয়ের কথা জানান।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর তোপখানা রোডে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের বক্তব্য ও সিদ্ধান্তের বিষয়গুলো জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটেছে। কিন্তু এসব আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত বিজয় ও পরিবর্তনের ধারাকে দীর্ঘস্থায়ী করার মতো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে না ওঠায় অতীতের অর্জন অনেক ক্ষেত্রেই ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।

নেতাদের ভাষ্য, জনগণের আন্দোলনে বারবার বিজয় এলেও সেই বিজয়ের সুফল শেষ পর্যন্ত জনগণের হাতে স্থায়ীভাবে পৌঁছায়নি। তাঁদের অভিযোগ, পুরোনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো বিভিন্ন সময়ে নতুন রূপে ফিরে এসেছে এবং জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

‘অর্জন রক্ষার মতো রাজনৈতিক দল ছিল না’

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র-জনতা বারবার রাজপথে রক্ত দিয়েছে এবং গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়েছে। কিন্তু এসব গণ–অভ্যুত্থানের বিজয় ও অর্জন রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও সময়োপযোগী রাজনৈতিক দল গড়ে ওঠেনি।

তাঁদের বক্তব্য, এ কারণে বারবার বিজয় অর্জনের পরও জনগণের সেই বিজয়ের ফল ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। পুরোনো ‘মাফিয়াতন্ত্র’ ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা বিভিন্ন সময়ে নতুন রূপে ফিরে এসেছে।

নেতারা বলেন, শুধু সরকার বা শাসক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের কাঠামো, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষমতার চর্চার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রয়োজন।

‘রাজনৈতিক বয়ান থেকে সাংগঠনিক সক্ষমতায়’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক যুগে প্রবেশ করেছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন পর্যায়ে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং এর রাজনৈতিক বয়ান তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তবে পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এসে সংগঠনটির দ্বিতীয় পর্বের প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে সাংগঠনিক সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিকে সামনে আনা হয়েছে।

নেতাদের ভাষায়, প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বে রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা ছিল সংগঠনটির অন্যতম প্রধান কাজ। এখন সেই বয়ানকে বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের জন্য সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাঁরা বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য শুধু আন্দোলন নয়, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রস্তুতিও প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই ‘অভ্যুত্থান রক্ষার উপযোগী দল’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

‘রক্তাক্ত জয় আর হাতছাড়া করা যাবে না’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত জনগণের বিজয়কে আর হাতছাড়া হতে দেওয়া যাবে না। তাঁদের মতে, আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সংস্কার নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সংগঠনকে একই সঙ্গে রাজপথের আন্দোলন এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

নেতারা বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য একটি টেকসই রাজনৈতিক রূপান্তর প্রয়োজন। এই রূপান্তরকে কার্যকর করতে হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

তাঁদের ভাষ্য, জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তন যাতে পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামোর কাছে ফিরে না যায়, সে জন্য একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি করা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের আগামী দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সুধী সমাবেশে সংহতি

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম।

সমাবেশে সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতারা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সুধীজন, বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নতুন রাজনৈতিক প্রত্যয়ের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের অর্জন বাস্তবায়নে রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁদের মতে, অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য শুধু রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নয়, নাগরিক সমাজ ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যেও ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তাঁরা একই সঙ্গে অভ্যুত্থানের অর্জন ধরে রাখা এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে বাস্তব রূপ দিতে রাজপথের আন্দোলনের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায়ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

পঞ্চম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন মূলত তাদের রাজনৈতিক কর্মকৌশলের পরবর্তী ধাপের দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছে। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনৈতিক বয়ান তৈরির পর এবার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রধান অঙ্গীকার।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স