ঢাকা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ: ভিডিও ও তথ্য দিতে আহ্বান, উল্লেখ করতে হবে প্রেরণকারীর নাম

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনায় তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তদন্তের স্বার্থে কারও কাছে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ থাকলে তা তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে তথ্য বা ভিডিও পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রেরণকারীর পরিচয় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শুক্রবার রাতে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা হাসান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কী ঘটেছিল

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে গত ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের বাইরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করার লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বা সংশ্লিষ্ট কারও কাছে থাকা তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে চায় কমিটি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে তথ্য বা ভিডিও থাকলে তা তদন্ত কমিটির কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তথ্য পাঠানোর সময় পরিচয় দিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ পাঠানোর সময় প্রেরণকারীর পরিচয় উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ পরিচয়বিহীনভাবে তথ্য বা ভিডিও পাঠানোর পরিবর্তে প্রেরণকারীর নাম ও পরিচয় জানিয়ে তা তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাতে হবে।

তবে তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশ্বস্ত করা হয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে তথ্যের উৎস সম্পর্কে কমিটি অবগত থাকবে, কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হবে না—এমনটাই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং সংঘর্ষে কারা জড়িত ছিলেন, তা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

১১ আগস্ট পর্যন্ত তথ্য পাঠানোর সুযোগ

যাঁদের কাছে সংঘর্ষের ঘটনার কোনো তথ্য, ছবি কিংবা ভিডিও ফুটেজ রয়েছে, তাঁদের আগামী ১১ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে তদন্ত কমিটির কাছে তা পাঠাতে বলা হয়েছে।

এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। আগ্রহীরা inquiry@office.jnu.ac.bd ঠিকানায় তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ পাঠাতে পারবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই আহ্বানের মাধ্যমে সংঘর্ষের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ, হামলা বা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার দৃশ্য এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

৪ আগস্টের সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। সমাজকর্ম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা হাসানকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজিস্ট্রার দপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. শহিদুল্যাহকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেজবাহ-উল-আজম সওদাগর।

কমিটির দায়িত্ব হলো ৪ আগস্ট কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামের বাইরে সংঘটিত হামলা ও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করা।

তদন্ত কমিটির আহ্বান অনুযায়ী এখন প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে থাকা তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে কমিটি কাজ করবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স