ঢাকা

হরমুজের পর বাব এল মান্দেব: বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন সংকটের পদধ্বনি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তার আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহার করে, তবে লোহিত সাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই জলপথটি অবরুদ্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি নেমে আসবে।

হুথিদের হুঁশিয়ারি ও নৌ-অবরোধের হুমকি
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। হুথি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আবেদ আল-থাওর ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে জানিয়েছেন:

সরাসরি হস্তক্ষেপ: হুথিরা যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিলে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরীগুলো তাদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হবে।

নৌ-অবরোধ: ইয়েমেন উপকূল দিয়ে চলাচলকারী ইসরায়েল অভিমুখী জাহাজগুলোর ওপর আনুষ্ঠানিক অবরোধ আরোপের পরিকল্পনা করছে তারা।

অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান ঝুঁকি
২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গাজা সংকটের সময় হুথিদের ড্রোন ও মিসাইল হামলায় বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ১০ শতাংশ তেল এবং ২০ শতাংশ কন্টেইনারবাহী জাহাজের যাতায়াত বিঘ্নিত হয়েছিল। বর্তমানে যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পেরোতে না পেরোতেই তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় নতুন কোনো অবরোধ বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি ঘটাতে পারে।

সৌদি আরবের দুশ্চিন্তা: বিকল্প পথও কি রুদ্ধ?
হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা এড়াতে সৌদি আরব বর্তমানে তাদের 'ইস্ট-ওয়েস্ট' পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু টার্মিনাল দিয়ে তেল রপ্তানি করছে।

রেকর্ড রপ্তানি: চলতি মার্চ মাসে এই পথে প্রতিদিন রেকর্ড ৫৯ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হয়েছে।

নতুন শঙ্কা: হুথিরা যদি লোহিত সাগরে হামলা শুরু করে, তবে সৌদি আরবের এই একমাত্র বিকল্প পথটিও অনিরাপদ হয়ে পড়বে। বিশ্লেষক সাইমন মিলারের মতে, সেক্ষেত্রে জাহাজগুলোকে বিশাল খরচ ও সময় ব্যয় করে পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে যাতায়াত করতে হবে।

হুথিদের রহস্যময় নীরবতা: রণকৌশল নাকি সীমাবদ্ধতা?
লেবাননের হিজবুল্লাহ বা ইরাকের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধে জড়ালেও হুথিরা এখনও বড় কোনো হামলায় যায়নি। এর পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে বলে মনে করছেন আটলান্টিক কাউন্সিলের গবেষক অ্যালিসন মাইনর:

স্বতন্ত্র লক্ষ্য: হুথিরা ইরানের মিত্র হলেও তাদের নিজস্ব আঞ্চলিক রাজনৈতিক এজেন্ডা রয়েছে।

অস্ত্রের মজুদ: ২০২৫ সালের দীর্ঘ যুদ্ধবিরতির পর তাদের দূরপাল্লার অস্ত্রের মজুদ কমে গিয়ে থাকতে পারে।

কূটনৈতিক চাপ: ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে হুথিদের এই যুদ্ধে না জড়াতে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে এবং তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে।

তবে সমরবিদদের মতে, তেহরান যদি শেষ পর্যন্ত সবুজ সংকেত দেয়, তবে বাব এল মান্দেব প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হুথিদের জন্য সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর তেমনটি ঘটলে ইউরোপ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স