রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ওই দিন বেলা দুইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দীন এ বৈঠক আহ্বান করেছেন।
মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমদের সই করা প্রজ্ঞাপনে ২০ আগস্ট সংসদের বৈঠক আহ্বানের বিষয়টি জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের সদস্যরা। সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ভোট গ্রহণের স্থান হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষ নির্ধারিত রয়েছে।
সংসদ অধিবেশন না থাকলেও বৈঠক ডাকার বিধান
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশন চলমান থাকা বাধ্যতামূলক নয়। সংসদের অধিবেশন না থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা যায়।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন দেখা দিলে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত দিনে ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করা হবে।
আইন অনুযায়ী, ওই বৈঠক আহ্বান করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ভোট গ্রহণের দিনের বৈঠকে সভাপতিত্বও করবেন তিনি। অর্থাৎ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০ আগস্ট যে সংসদীয় বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে, সেটি নিয়মিত সংসদ অধিবেশন নয়; মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট গ্রহণের জন্য আইন অনুযায়ী আহ্বান করা একটি বিশেষ বৈঠক।
২০ আগস্ট কেন সংসদের বৈঠক
বর্তমানে জাতীয় সংসদের কোনো অধিবেশন চলমান নেই। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন গত ১৫ জুলাই শেষ হয়েছে। আগামী ২৭ আগস্ট থেকে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ আগস্ট। অর্থাৎ নিয়মিত সংসদ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর এবং পরবর্তী অধিবেশন শুরুর আগেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই কারণে ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক ও আইনগত সুযোগ নিশ্চিত করতে আলাদাভাবে সংসদের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
সংসদ কক্ষেই হবে ভোট
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে। এ নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যরাই নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। ফলে সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের মতো ভোটারদের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত থাকে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান থেকে শুরু করে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক কাঠামো
বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় স্বতন্ত্র একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের ভোটই মূল বিষয়। তাই নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ও ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সংসদের বৈঠক আহ্বান করা প্রয়োজন হয়।
তবে এই বৈঠককে নিয়মিত সংসদ অধিবেশনের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। এটি নির্দিষ্টভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের উদ্দেশ্যে আহ্বান করা হবে।
ভোট গ্রহণের দিনে সিইসির সভাপতিত্ব
২০ আগস্টের বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, সংসদের অধিবেশন চলমান না থাকলে ভোট গ্রহণের জন্য যে বৈঠক আহ্বান করা হয়, সেটিতে সভাপতিত্ব করার দায়িত্বও নির্বাচনী কর্তার ওপর থাকে।
এ কারণে ২০ আগস্টের বৈঠকে সংসদীয় কার্যক্রমের প্রচলিত কাঠামোর পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত কার্যক্রমই প্রধান গুরুত্ব পাবে।
নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ভোট গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং ভোটের ফলাফল ঘোষণা করবে।
নিয়মিত অধিবেশনের আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
আগামী ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তার এক সপ্তাহ আগে ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদের নিয়মিত অধিবেশন এগিয়ে আনা বা তৃতীয় অধিবেশন শুরু করার প্রয়োজন পড়ছে না। আইন অনুযায়ী আলাদা বৈঠক আহ্বান করেই ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এখন ২০ আগস্টের ভোট গ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়েছে। ওই দিন সংসদ সদস্যদের ভোটের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সংসদের বৈঠক আহ্বানের এই প্রক্রিয়া মূলত দেখায় যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার জন্য সংসদের নিয়মিত অধিবেশন থাকা আবশ্যক নয়। বরং প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ এবং সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করতে পারে। এবারও সেই আইনগত প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে।