ঢাকা

এসএসসি উত্তীর্ণদের উচ্চশিক্ষায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের সহায়তা, ২ বছর মিলবে বৃত্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনার জন্য শিক্ষাবৃত্তি দেবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এ বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা দুই বছর আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়ার পাশাপাশি পাঠ্য উপকরণ ও পোশাক-পরিচ্ছদের জন্যও পৃথক অনুদান দেওয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে আসছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় এবার ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

আবেদনের যোগ্যতা

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের বৃত্তির জন্য এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে নির্ধারিত ফলাফল থাকতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জিপিএ-৫ থাকতে হবে। একইভাবে জেলা শহর এলাকার স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদেরও চতুর্থ বিষয় বাদে জিপিএ-৫ পেতে হবে।

তবে গ্রামীণ ও অনগ্রসর অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যোগ্যতার মানদণ্ড কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এসব এলাকার শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বিষয় বাদে ন্যূনতম জিপিএ ৪ দশমিক ৮৩ থাকতে হবে।

বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মেধার পাশাপাশি আর্থিক অসচ্ছলতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বৃত্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক বৃত্তির জন্য কিছু বিশেষ নীতিমালা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—সরকারি বৃত্তি ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।

এ ছাড়া বৃত্তির সুযোগ যাতে দেশের পিছিয়ে থাকা এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছে বেশি পৌঁছে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট বৃত্তির ৯০ শতাংশ গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকায় অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষায় নারী-পুরুষের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও বৃত্তির একটি বড় অংশ ছাত্রীদের জন্য রাখা হয়েছে। ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, মোট বৃত্তির ৫০ শতাংশ ছাত্রীদের দেওয়ার কথা রয়েছে।

মাসে ২,৫০০ টাকা, সঙ্গে বই ও পোশাকের অনুদান

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এই শিক্ষাবৃত্তি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে দুই বছর দেওয়া হবে। অর্থাৎ বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এইচএসসি পর্যায়ের পুরো দুই বছর আর্থিক সহায়তা পাবেন।

প্রতি মাসে শিক্ষার্থীদের ২ হাজার ৫০০ টাকা করে বৃত্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি পড়াশোনার প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার জন্য বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং পোশাক-পরিচ্ছদের জন্য বছরে ১ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে।

ফলে মাসিক বৃত্তির পাশাপাশি বছরে পাঠ্য উপকরণ ও পোশাকের জন্যও আলাদা আর্থিক সহায়তা পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা।

যেভাবে আবেদন করতে হবে

যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

আবেদনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্ক্যান কপি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবির স্ক্যান কপি;
বাবা ও মায়ের পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবির স্ক্যান কপি;
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার নম্বরপত্রের স্ক্যান কপি;
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার প্রশংসাপত্রের স্ক্যান কপি।

আবেদন করার আগে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদনের শেষ সময় ৪ সেপ্টেম্বর

বৃত্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করার শেষ সময় ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন গ্রহণ করা হবে না। তাই যোগ্য শিক্ষার্থীদের শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করার সুযোগ রয়েছে।

আবেদন শেষ হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে বাছাই করা প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রাথমিকভাবে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিতদের কাগজপত্র যাচাই

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে ‘Primary Selection Letter’ সংগ্রহ করতে হবে। এর সঙ্গে ব্যাংকের দেওয়া নির্দেশিকার প্রিন্ট কপি এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত স্থানে উপস্থিত হয়ে তথ্য ও নথির সত্যতা যাচাই করাতে হবে।

এ যাচাই কার্যক্রম ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। এ সময়ের মধ্যে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের যেকোনো শাখা অথবা মোবাইল ব্যাংকিং অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করাতে হবে।

চূড়ান্ত ফল ওয়েবসাইটে

কাগজপত্র যাচাই ও বাছাই প্রক্রিয়া শেষে বৃত্তির চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানানো হবে।

বৃত্তির আবেদনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সরাসরি, ডাকযোগে বা কুরিয়ারযোগে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। সব আবেদন নির্ধারিত অনলাইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করতে হবে।

মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে এই বৃত্তি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য মোট বৃত্তির বড় অংশ নির্ধারণ করায় এসব এলাকার যোগ্য শিক্ষার্থীদের আবেদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স