ঢাকা

ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে ইসরায়েলে ধ্বংসস্তূপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যপ্রাচ্যে টানা ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়ানো সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া আলটিমেটাম ও পাল্টাপাল্টি হামলায়। একদিকে ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে উদ্ধার করার দাবি করেছে ওয়াশিংটন; অন্যদিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফায় একটি ভবন ধসে পড়ার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কথা জানালেও উভয় পক্ষের ভাষ্য ও সামরিক তৎপরতায় পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে।

ট্রাম্পের নির্দিষ্ট সময়সীমা ও হুমকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social–এ দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সময় মঙ্গলবার রাত আটটা (ইস্টার্ন টাইম) পর্যন্ত সময় রয়েছে। এর মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো লক্ষ্য করে হামলার হুমকি দেন তিনি।

তেহরান এই মন্তব্যকে ‘যুদ্ধাপরাধের উসকানি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ জোরদার করা হয়েছে।

‘সবচেয়ে দুঃসাহসিক’ উদ্ধার অভিযান

ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমানের দ্বিতীয় ক্রুকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আঘাতে যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয় বলে জানা যায়। একই দিনে পাইলটকে উদ্ধার করা হলেও নিখোঁজ ছিলেন ওয়েপন সিস্টেম অফিসার (ডব্লিউএসও)।

নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এ-১০ ওয়ারথগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয় এবং দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে ফেলে। কারণ, ওই কর্মকর্তা ইরানের হাতে আটক হলে তাঁকে ঘিরে দর-কষাকষির নতুন মাত্রা তৈরি হতে পারত।

রোববার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সাত ঘণ্টার এক জটিল অভিযানে পাহাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি কর্নেল পদমর্যাদার বলে জানান প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ভাষায়, “তাঁকে ফিরিয়ে আনতে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অস্ত্রে সজ্জিত কয়েক ডজন সামরিক উড়োজাহাজ ও কয়েক শ কমান্ডো অংশ নিয়েছে।” তিনি একে মার্কিন ইতিহাসের “সবচেয়ে দুঃসাহসিক অভিযানগুলোর একটি” বলে মন্তব্য করেন।

ইরানের পাল্টা দাবি

তবে ইরান এই উদ্ধার অভিযানকে ‘ব্যর্থ’ বলে দাবি করেছে। তেহরানের ভাষ্য, অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি সি-১৩০ পরিবহন উড়োজাহাজ ও দুটি ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, চাকা আটকে যাওয়া উড়োজাহাজ দুটি নিজেরাই ধ্বংস করেছেন সেনারা, যাতে তা শত্রুপক্ষের হাতে না পড়ে।

উভয় পক্ষের দাবি যাচাই করা কঠিন হওয়ায় সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ধসে পড়ল ভবন

এদিকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েল ও লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah–এর মধ্যে গোলাগুলি ও রকেট হামলা চলছে। ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে লেবাননের এক সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপসাগরীয় স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু

ইরান জানিয়েছে, নিজেদের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলার জবাবে তারা ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মার্কিন কোম্পানির তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রশ্নে সামান্য অস্থিতিশীলতাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও বাড়ছে।

কূটনীতি নাকি পূর্ণাঙ্গ সংঘাত?

যুদ্ধের ময়দানে পাল্টাপাল্টি হামলা ও কড়া ভাষণের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মধ্যস্থতাকারীরা সংঘাত সীমিত রাখতে তৎপর বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। তবে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া আলটিমেটাম এবং অব্যাহত সামরিক অভিযানের কারণে পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও বিস্তৃত যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই এখন প্রবল।

রয়টার্স ও আল–জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার—উভয়ের জন্যই নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স