ঢাকা

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন: মোটরসাইকেলে এসে হামলা চালানোর অভিযোগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। মোটরসাইকেলে এসে দাহ্য পদার্থে ভেজানো জ্বলন্ত কাপড় স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে মেরে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। এতে স্মৃতিস্তম্ভের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মোটরসাইকেলে এসে আগুন ছুড়ে পালায় দুই ব্যক্তি

পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচি উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভটি কাপড় দিয়ে ঘিরে সাজানো হয়েছিল।

সোমবার গভীর রাতে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি দূর থেকে একটি ছোট কাপড়ের দলায় কেরোসিন বা পেট্রলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন জ্বালিয়ে সেটি স্মৃতিস্তম্ভের দিকে ছুড়ে মারে।

জ্বলন্ত কাপড়টি স্মৃতিস্তম্ভের পাশের অংশে পড়ে আগুন ধরে যায়।

ঘটনার পরপরই সেখানে দায়িত্ব পালনরত অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান। ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনার সময় কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দূর থেকে আগুন লাগার ভিডিও ধারণ করেন।

পরে মঙ্গলবার বিকেলে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

স্মৃতিস্তম্ভ অক্ষত রয়েছে

নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন ও অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, আগুন লাগার ঘটনায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের কোনো ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।

তিনি বলেন, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ

ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসেন।

তিনি জানান, জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের নিরাপত্তায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে।

ঘটনার সময় ক্যাম্পে থাকা সদস্যরা আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তা নিভিয়ে ফেলেন।

তিনি আরও বলেন, আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে আশপাশের সড়ক ও এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

একই সঙ্গে ঘটনাটি পরিকল্পিত নাশকতা কি না এবং এর পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কিংবা তাদের সহযোগী কোনো সংগঠনের সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে গত বছরের ১৪ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়।

তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টা স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।

এর আগে ১৬ জুলাই শহীদদের স্মরণে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সেই আয়োজন উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশ সাজসজ্জার জন্য কাপড় দিয়ে ঘেরা হয়েছিল। পুলিশ ধারণা করছে, সেই কাপড়ে আগুন লাগানোর উদ্দেশ্যেই দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল।

তদন্ত অব্যাহত

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সব দিক বিবেচনায় তদন্ত করা হচ্ছে। আগুন দেওয়ার উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা এবং জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স