আরেকটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বড় বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অর্থঋণ আদালত আইন এবং ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণখেলাপির হার কমিয়ে আনা এবং ভবিষ্যতে যাতে ঋণখেলাপি না হয়, সেই বিষয়ে কৌশলপত্র প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশণা দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, অর্থ পাচারের ক্ষেত্রে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মামলাগুলোর ক্ষেত্রে দেশের আদালত ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার সম্পত্তি অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে।
দুর্দশাগ্রস্ত ৫ ব্যাংক
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আবদুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বর্তমানে দেশে বেসরকারি পর্যায়ে পরিচালিত (বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক) অনুমোদিত ব্যাংক ৪৪টি। দুর্দশাগ্রস্ত ৫টি ব্যাংকের আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ ২০২৫-এর আওতায় ব্যাংক রেজোল্যুশন স্কিম ২০২৫ প্রণয়ন করে প্রাথমিকভাবে সুরক্ষিত আমানত হিসেবে প্রতিটি অপ্রাতিষ্ঠানিক আমানতকারীকে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে। অবশিষ্ট টাকা স্কিম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা হবে।
এ ছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ছাড় করা হচ্ছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ বলেন, অন্যান্য গুরুতর রোগের (যেমন ব্রেন টিউমার, হার্ট ও ফুসফুসসংক্রান্ত অপারেশন) ক্ষেত্রেও অর্থ ছাড় করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এই পাঁচ ব্যাংক হচ্ছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। বেসরকারি এই ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে রাষ্ট্রের মালিকানায় গঠন করা হয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক।
বৈদেশিক ঋণ ৭৮ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, বর্তমানে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮ হাজার ৬৭ মিলিয়ন (৭ হাজার ৮০৬ কোটি) মার্কিন ডলার। বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর এ পর্যন্ত ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনে ব্যাংক থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। সরকারের ঋণ দ্রুত বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে চলতি অর্থবছরের বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে এবার নতুন কোনো পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে কি না?
জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, যে ঋণের কথা বলা হচ্ছে, সেটা মূলত বিগত আমলের। বিএনপির অর্থনৈতিক নীতি হচ্ছে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ কমিয়ে আনা। আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন দেখা যাবে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ বলেন, ব্যবসায়ীরা ‘এক্সিস্টেনশিয়াল থ্রেটে’ আছেন। ব্যাংকের রিপেমেন্ট করতে পারছেন না। তাঁদের স্টাফদের বেতন দিতে পারছেন না। ফ্যাক্টরিগুলো রিডান্ডেড হয়ে যাচ্ছে। এগুলো আগে থেকে হয়ে আসছে। বিএনপি সরকার ট্যাক্স জিডিপি অনুপাত যে জায়গায় রেখে গিয়েছিল, বিগত সরকারগুলোর সময়ে তা নিচে নেমেছে। এটা আগের জায়গায় নিতে একটু সময় দিতে হবে।