ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে হেনস্তা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক অপপ্রচার বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা।
বুধবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) বেলা সাড়ে তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মুসাদ্দিক আলী। ঘটনাটি ঘিরে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
‘পথরোধ করে গালিগালাজ ও হুমকি’
মুসাদ্দিক আলী জানান, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিট থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে তিনি কলা ভবনের পেছনের ফটক দিয়ে ক্লাসে যাচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিনসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন।
মুসাদ্দিক বলেন, “আমি জিজ্ঞেস করি, কী হয়েছে ভাই? আপনি কে? আমি তাকে চিনতে পারছিলাম না। তখনই তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং বলেন, আমার দাঁত ফেলে দেবেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরিস্থিতি এক পর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলাউদ্দিন তাঁকে মারতে উদ্যত হন। পরে সঙ্গে থাকা অন্যরা তাঁকে সরিয়ে নিলেও তিনি বারবার এগিয়ে এসে হামলার চেষ্টা করেন এবং চলে যাওয়ার সময় হুমকি দেন বলে দাবি করেন ডাকসুর এই নেতা।
অভিযোগ অস্বীকার ছাত্রদল নেতার
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ও প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, সেটির ব্যাখ্যা চাইতে গিয়ে কেবল কথাবার্তা হয়েছে।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, “আমি শুধু জিজ্ঞেস করেছি, আমার নামে যে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেটার জবাব কেন দেওয়া হয়েছে। আমি তো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। এটা জানার অধিকার আমার আছে।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, জবাব চাওয়া কি কোনো অপরাধ কিনা। তাঁর দাবি, ঘটনাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ডাকসু নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থনে নির্বাচিত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০০৬–০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক মামলার কারণে পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটায় তিনি পরবর্তীতে ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষে পুনরায় ভর্তি হন এবং সর্বশেষ ২০২৩–২৪ সেশনে আবারও শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রক্টর অফিসের সামনে সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতিকে ঘিরে একাধিক উত্তেজনাকর ঘটনা ঘটছে। ফলে ব্যক্তিগত অভিযোগগুলোও দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে, যা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে।
এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও পর্যবেক্ষকরা।