সংসদ সদস্যদের (এমপি) জন্য গাড়ি সুবিধা নিয়ে নিজের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো শুল্কমুক্ত বা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ির দাবি করেননি; বরং সরকারি কর্মকর্তাদের মতো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গাড়ি ব্যবহারের একটি কাঠামোর কথা বলেছেন।
বুধবার জাতীয় সংসদে ফ্লোর নিয়ে ‘ব্যক্তিগত কৈফিয়ত’ দিতে গিয়ে তিনি এ ব্যাখ্যা দেন। এ সময় তিনি আগের দিনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
আগের বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গঠনের পর সরকারি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট সুবিধা তারা গ্রহণ করবেন না। তিনি জানান, এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে তিনি সংসদে বক্তব্য রেখেছিলেন।
তবে গণমাধ্যমে তার বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
‘ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নয়, সরকারি ব্যবস্থার কথা বলেছি’
সংসদে দেওয়া ব্যাখ্যায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁর মূল প্রস্তাব ছিল—সরকারি কর্মকর্তাদের যেমন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ডিসি, ইউএনও ও এসি ল্যান্ডদের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়, একইভাবে সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ ব্যবস্থা থাকা উচিত কি না, তা বিবেচনা করা।
তিনি বলেন, “আমি ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি চাইনি। আমি বলেছি, এমপিদেরও সরকারি প্রক্রিয়ায় গাড়ি দেওয়া হোক, যতদিন এমপি থাকবেন ততদিন ব্যবহার করবেন, এরপর তা সরকার ফেরত নেবে।”
গাড়ি বরাদ্দ ও ভাতা প্রসঙ্গ
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, বর্তমানে সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ি মেইনটেন্যান্স বাবদ মাসে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়, কিন্তু অনেকের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই। এতে কার্যক্রম পরিচালনায় বাস্তবিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
তার মতে, একটি সরকারি মালিকানাধীন গাড়ি বরাদ্দ দিলে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই কার্যকরভাবে কাজ চালানো সম্ভব হবে।
গণমাধ্যমে ‘বিভ্রান্তি’ সৃষ্টির অভিযোগ
তিনি অভিযোগ করেন, তার বক্তব্যকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে তারা কোনো শুল্কমুক্ত গাড়ি বা প্লট সুবিধা গ্রহণের পক্ষে নন—এ অবস্থান আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে।
স্পিকারের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি আগেই পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে দেশবাসী ইতিবাচকভাবে দেখেছে এবং প্রশংসা করেছে।
রাজনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, সংসদ সদস্যদের সুবিধা নিয়ে চলমান বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে সুবিধার কাঠামো কেমন হবে—ব্যক্তিগত মালিকানা, সরকারি বরাদ্দ বা ভাতা—এই প্রশ্নে এখনো নীতিগত বিতর্ক রয়ে গেছে।
সামগ্রিক চিত্র
হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে ব্যাখ্যা দিয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার উদ্দেশ্য ছিল না কোনো অতিরিক্ত সুবিধা দাবি করা, বরং বিদ্যমান ব্যবস্থার মধ্যে একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ কাঠামোর প্রস্তাব রাখা।