ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন, নৌবাহিনীর বেসামরিক প্রধান বিদায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুদ্ধবিরতির মাঝেই নেতৃত্বে রদবদল, প্রশ্ন উঠছে সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় আকস্মিক এক পরিবর্তনের মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বেসামরিক প্রধান জন ফেলান-কে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র, যাদের তথ্য অনুযায়ী প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের জেরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বুধবার সন্ধ্যায় জানান, ফেলান “অবিলম্বে” পদত্যাগ করছেন। তবে ঘটনাটি যে শুধুই প্রশাসনিক নয়, বরং অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার টানাপোড়েনের ফল—তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বক্তব্যে।

হেগসেথ–ফেলান দ্বন্দ্ব: কয়েক মাসের উত্তেজনার পরিণতি

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই জন ফেলানের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিশেষ করে জাহাজ নির্মাণ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল ফেলানের সরাসরি যোগাযোগ ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে। হেগসেথ এটিকে তাঁর কর্তৃত্বকে পাশ কাটানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখতেন বলে জানা গেছে।

প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ফেলানকে সরানোর আগে হেগসেথ ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পরে ফেলানকে জানানো হয়—তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন, না হলে তাঁকে বরখাস্ত করা হবে।

হোয়াইট হাউস বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

সূত্রগুলো বলছে, হোয়াইট হাউসে জাহাজ নির্মাণ ইস্যুতে ট্রাম্প ও হেগসেথের বৈঠকের সময় এই দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছে। বৈঠকে ট্রাম্প নিজেও নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মাণ কর্মসূচির ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এর পরই নেতৃত্ব পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দ্রুত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চান ট্রাম্প ও তাঁর প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

দায়িত্ব নিলেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান

পেন্টাগনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আন্ডার সেক্রেটারি হুং কাও অস্থায়ীভাবে নৌবাহিনীর বেসামরিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

পার্নেল এক বিবৃতিতে ফেলানের অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেন।

সময়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ

এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান এবং মার্কিন নৌবাহিনী সক্রিয়ভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জড়িত।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন নৌবাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানি জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং কিছু জাহাজে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীর শীর্ষ বেসামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই কৌশলগত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

ফেলানের প্রতিক্রিয়া ও নাটকীয় মুহূর্ত

সূত্রগুলোর মতে, পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার পর ফেলান প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি। তিনি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন।

এক পর্যায়ে তিনি সরাসরি হোয়াইট হাউসে গিয়ে ওয়েস্ট উইং-এ ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে ট্রাম্প তাঁকে সংক্ষেপে জানিয়ে দেন, তিনি আর তাঁর পদে নেই।

বিতর্কিত অতীত প্রসঙ্গ

ফেলানের নাম এর আগে আলোচনায় আসে যখন একটি পুরোনো ফ্লাইট তালিকায় তাঁর নাম পাওয়া যায়, যা কুখ্যাত অপরাধী জেফরি এপস্টিনের বিমানের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। যদিও তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি বিষয়টি আগে জানতেন না এবং এপস্টিনের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেননি।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন বৃহত্তর নীতিগত পুনর্বিন্যাসের অংশ হতে পারে। পিট হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক পদে পরিবর্তন এনে নিজের নীতি বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছেন।

ফেলানের বিদায় সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।


মার্কিন নৌবাহিনীর বেসামরিক প্রধানকে সরানোর ঘটনাটি শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং এটি প্রতিরক্ষা নীতিনির্ধারণ, রাজনৈতিক প্রভাব এবং সামরিক কৌশলের জটিল সমন্বয়ের প্রতিফলন।

বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির সংবেদনশীল সময়ে এই পরিবর্তন ভবিষ্যৎ নৌ কৌশল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলবে—তা এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স