দেশে গত মে মাসে রাজনৈতিক সংঘাত, গণপিটুনি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং সীমান্তে প্রাণহানিসহ বিভিন্ন মানবাধিকার-সংক্রান্ত ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটির সাম্প্রতিক মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘর্ষের অন্তত ৬৪টি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫ জন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২৯০ জন। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী ছাড়াও একজন সাধারণ নাগরিক ছিলেন।
একই সময়ে গণপিটুনি ও অন্যান্য সহিংসতার ৬৬টি ঘটনায় ৩১ জনের মৃত্যু এবং ৬৮ জন আহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় চুরি বা গুজবকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কয়েকটি প্রাণঘাতী ঘটনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতার চিত্রও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। মে মাসে মোট ৩০৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩টি ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগীদের বড় একটি অংশ ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। কয়েকটি ঘটনায় ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগও উঠে এসেছে।
যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন আরও ৭৬ জন নারী ও কন্যাশিশু। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই শিশু। শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়।
প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত মৃত্যুর অভিযোগ, অজ্ঞাত পরিচয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ঘটনার তথ্যও স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রামক রোগের বিস্তার এবং চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কেও প্রতিবেদনে তথ্য দেওয়া হয়েছে। মে মাসে সীমান্ত এলাকায় হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যু এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে প্রায় দুই হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে বিভিন্ন ঘটনায় বহু সাংবাদিক হামলা, হুমকি, লাঞ্ছনা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিক অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।