ঢাকা

তিন মাসের জ্বালানি তেল মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশ করল বিশেষ কমিটি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা অন্তত তিন মাসে উন্নীত করার সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ’ শীর্ষক এই বিশেষ কমিটি গত ২৬ এপ্রিল গঠন করা হয়। এতে সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য ছিলেন এবং কমিটি দুটি বৈঠকের মাধ্যমে সুপারিশ চূড়ান্ত করে।

জ্বালানি পরিস্থিতিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে কমিটি

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত। যদিও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বহুমুখী জ্বালানি উৎস ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই।

কমিটির মতে, জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

কমিটির প্রধান সুপারিশসমূহ

বিশেষ কমিটি জ্বালানি খাতকে আধুনিক ও স্থিতিশীল করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা কমপক্ষে তিন মাসে উন্নীত করা
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও ডিজিটাল মনিটরিং চালু করা
অবৈধ মজুত ও পাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা
এলএনজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা
ঢাকা–চট্টগ্রাম পাইপলাইন, এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল–২ দ্রুত বাস্তবায়ন
জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা
বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি খাতের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা যাচাই
ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন কার্যক্রম বাধ্যতামূলক ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন
সিস্টেম লস কমাতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ
তেল, গ্যাস, কয়লা, সৌর ও বায়ু—সব উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন

কমিটি মনে করে, জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একক উৎসনির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী উৎসের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো জরুরি।

বিরোধী দলের পৃথক ১০ দফা সুপারিশ

কমিটির বিরোধী দলের সদস্যরা পৃথকভাবে ১০টি সুপারিশ তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—

জ্বালানি চাহিদা পূর্বাভাসের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন
কয়লার সর্বোচ্চ ও সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা
দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো
গ্যাস কূপের ওয়ার্কওভার দ্রুত সম্পন্ন করে উৎপাদন বৃদ্ধি
জ্বালানি আমদানি ও পরিশোধন অবকাঠামো শক্তিশালী করা
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করা
সরকারি দপ্তরে জ্বালানি সাশ্রয়ী যানবাহন ব্যবহার নিশ্চিত করা
জ্বালানি খাতে একটি কৌশলগত রোডম্যাপ প্রণয়ন
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির বহুমুখী উৎস নিশ্চিত করা
পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ
দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর জোর

প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি খাতকে কেবল স্বল্পমেয়াদি সংকট ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভরতা কমানো, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।

কমিটির মতে, সমন্বিত নীতিমালা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।



জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির এই প্রতিবেদন জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ উভয়কেই সামনে এনেছে। তিন মাসের কৌশলগত মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধির সুপারিশকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় দেশের প্রস্তুতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স