ঢাকা

৭০০ কোটি লুটেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রেস অ্যাসেটের এমডি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

পুঁজিবাজারের শীর্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান রেস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাসান তাহের ইমামের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের কোটি কোটি টাকা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মামলাও দায়ের করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এক তদন্তে তার বিরুদ্ধে ৭০০ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে।

সিআইডির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসান তাহের শুধু বিনিয়োগকারীদের টাকা আত্মসাৎ করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি অর্থ পাচার করে স্ত্রী-সন্তানদের নামে দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকার সম্পদ তৈরি করেছেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বৈত নাগরিক। তবে, তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, এবং তদন্ত প্রতিবেদনটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সখ্যতার কারণে চাপা পড়ে যায়।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এখন নতুন করে হাসান তাহের ইমামের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে, মাল্টি সিকিউরিটিজ লিমিটেড নামক ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে তিনি বিনিয়োগকারীদের কয়েকশ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। দুদক এ বিষয়ে তদন্তের জন্য তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য সংগ্রহ করেছে।

সিআইডির তদন্তে জানা যায়, হাসান তাহের ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১২টি মিউচুয়াল ফান্ড ও একটি এসপিভি কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তার নিয়ন্ত্রিত ব্রোকার হাউসের মাধ্যমে তিনি বিনিয়োগকারীদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন আদায় করেন। তদন্তে হাসান তাহেরের বিরুদ্ধে আরও অনেক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ৭০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত বছর তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও নানা অনিয়মের তদন্ত শুরু করেছিল। যদিও তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও, তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এ ছাড়া গুলশানে একটি জমি দখলের অভিযোগে তিনি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অভিযুক্ত হয়েছেন।

তাসলিমা ইসলাম নামক এক নারীর অভিযোগে জানানো হয় যে, হাসান তাহের তার পরিবারের জমি দখল করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন যে, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের খাতের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্তাব্যক্তিরাই দায়ী, যারা নিজেদের লাভের জন্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ নষ্ট করেছেন। তারা বলেন, পুঁজিবাজারের এই ধরনের অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া না হলে বাংলাদেশে মিউচুয়াল ফান্ডের ভবিষ্যৎ নিরাপদ হবে না।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স