মানি লন্ডারিং মামলায় সাদেক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন কারাগারে
‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত সাদেক এগ্রোর চেয়ারম্যান ইমরান হোসেনকে মানি লন্ডারিং মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম. এ আজহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের উপ-পরিদর্শক মো. ছায়েদুর রহমান আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আল মামুন রাসেল জামিনের আবেদন করেন। তবে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী ইমরানকে কারাগারে রাখার পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে, মঙ্গলবার দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে ইমরান হোসেনকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বিকেল ৩টার দিকে তাকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।
সোমবার (৩ মার্চ) সিআইডির মুখপাত্র অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান ইমরান হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই দিন সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম অর্গানাইজডের উপ-পরিদর্শক জোনাঈদ হোসেন মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।
১৩৩ কোটি টাকার মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইমরান হোসেন ও তার সহযোগী তৌহিদুল আলম জেনিথসহ সাদেক এগ্রো লিমিটেডের সঙ্গে জড়িতরা সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের মাধ্যমে চোরাচালান, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অনুমোদনহীন ব্রাহমা জাতের গরু আমদানি করেন। একইসঙ্গে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে বিদেশে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা পাচার করেছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্ত দিয়ে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে গরু ও মহিষ দেশে এনে বিক্রি করা হতো। এছাড়া, ভুটান ও নেপাল থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে ছোট আকৃতির ভুট্টি গরু এনে সেগুলো বিদেশি বলে প্রচার করে বেশি দামে কোরবানির পশুর হাটে বিক্রি করা হতো।
ঢাকার কাস্টমস হাউজ থেকে আটক করা ১৫টি ব্রাহমা জাতের গরু সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জবাই করে মাংস বিক্রির কথা থাকলেও, কাগজে-কলমে জবাই দেখিয়ে আসামিরা সেগুলো হাতিয়ে নেন।
এছাড়া, অনুমোদন ছাড়াই মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকায় রামচন্দ্রপুর সরকারি খাল ভরাট ও জবরদখল করা হয়েছে।
অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ইমরান হোসেনের মালিকানাধীন ‘জালালাবাদ মেটাল লিমিটেড’ নামে এফডিআর খুলে ১১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়।
মোট ১৩৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার মানি লন্ডারিং, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করা হয়।