ঢাকা

তুরস্কে এরদোয়ান, শারা ও জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করবেন ট্রাম্প: রয়টার্স

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করতে চলতি সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠেয় ন্যাটো (ন্যাটো) সম্মেলনের ফাঁকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলনের সময় তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ট্রাম্পের তুরস্কে পৌঁছে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলন তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত হবে।

এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক দিয়ে শুরু হবে সফর

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তুরস্কে পৌঁছেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে স্বাগতিক দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এরপর তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকগুলোর পর ট্রাম্প একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ারও কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা সহযোগিতা—এসব বিষয় বৈঠকগুলোর আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।

জেলেনস্কির সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা

মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানান, বুধবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে যুদ্ধক্ষেত্র কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কোনো পক্ষই উল্লেখযোগ্য সামরিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধের অবসান ঘটানোর বিষয়ে আন্তরিকভাবে আগ্রহী এবং তিনি মনে করেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।

ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর আহ্বান

সম্মেলনে অংশ নেওয়া ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি ব্যয় করার আহ্বান জানাবেন ট্রাম্প।

মার্কিন কর্মকর্তা জানান, প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এই বার্তা মিত্রদের কাছে তুলে ধরবেন। যদিও তিনি সম্ভাব্য ব্যয়ের লক্ষ্য বা নির্দিষ্ট অঙ্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।

তিনি আরও বলেন, সম্মেলন চলাকালে প্রতিরক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট শত শত কোটি ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণারও পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউরোপের প্রত্যাশা ও শঙ্কা

ইউরোপীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুতের সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সম্মেলনকে ইতিবাচক পরিবেশে এগিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে কিছুটা সতর্কতাও রয়েছে।

বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং অতীতে ট্রাম্পের ন্যাটো নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে সম্মেলনের ফলাফল নিয়ে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত নন।

ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয়েছে। এতে উভয় পক্ষই ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং সামরিক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।

ট্রাম্প অতীতেও যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সংঘাত দ্রুত বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেনীয় বাহিনী রুশ সেনাদের অগ্রযাত্রার গতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টাও অব্যাহত রেখেছে কিয়েভ ও তার পশ্চিমা মিত্ররা।

এই প্রেক্ষাপটে ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির বৈঠক ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং নেতাদের বৈঠকগুলো আগামী মাসগুলোতে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স