ঢাকা

কমিটি ঘোষণার এক মাসেই যুবদলে অসন্তোষ, আলোচনায় নেতৃত্ব

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার এক মাসের মাথায় বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের শীর্ষ নেতৃত্বে মতপার্থক্য ও সাংগঠনিক অস্বস্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। সারা দেশে সাংগঠনিক সপ্তাহ পালন শেষে রোববার (৫ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি পর্যালোচনা সভায় একাধিক বিষয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

তবে যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম (মুন্না) এবং সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (নয়ন) উভয়েই সংগঠনের ভেতরে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বা বিভক্তির অভিযোগ নাকচ করেছেন। তাঁদের দাবি, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের সাংগঠনিক সভায় মতবিনিময় ও মতপার্থক্য স্বাভাবিক বিষয়।

সহসভাপতিকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক

সভার বিষয়ে অবগত একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ফিরোজ আবদুল্লাহকে কেন্দ্র করেই আলোচনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে ঠিক কোন বিষয় থেকে পরিস্থিতির সূত্রপাত, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বর্ণনা পাওয়া গেছে।

একটি সূত্রের দাবি, ফিরোজ আবদুল্লাহকে ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব দেওয়া হলেও পর্যালোচনা সভায় তিনি ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করেন। এ নিয়েই উপস্থিত নেতাদের মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, ওই মন্তব্যের পর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম (নয়ন) ফিরোজ আবদুল্লাহকে সতর্ক করে বলেন, তিনি সভাপতির স্বাক্ষরে সহসভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন, তাই সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে চলা উচিত।

সূত্রগুলোর দাবি, এ মন্তব্যে বিব্রত হয়ে ফিরোজ আবদুল্লাহ সভাকক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর সভাপতি আবদুল মোনায়েম সংগঠনের তিন সহসভাপতি—কামরুজ্জামান, শামসুজ্জোহা ও মনিরুল ইসলামের অতীত সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রাজনৈতিক মহলে এই তিন নেতাকে সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়টি নিয়েও সভার পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সাংগঠনিক সফর নিয়েও অসন্তোষ

জরুরি সভায় সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সফর নিয়েও অসন্তোষের বিষয়টি উঠে আসে বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানায়, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফেরদৌস, মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান সম্প্রতি কক্সবাজার সফরে অংশ নেন। সভায় মাহমুদুস সালেহীন ও জিয়াউর রহমান অভিযোগ করেন, ওই সফরে তাঁদের প্রাপ্য সাংগঠনিক মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া হয়নি।

এ সময় আরও কয়েকজন নেতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন কিছু ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাঁদের উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক পরিচয় বা সাংগঠনিক অবদান নেই। তাঁদের দাবি, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতা মূলত সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। এই ধরনের নিয়োগ সাংগঠনিক অস্বস্তির অন্যতম কারণ বলেও সভায় মত প্রকাশ করা হয়।

সাধারণ সম্পাদক যা বললেন

যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম (নয়ন) এসব বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, সাংগঠনিক বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে।

তিনি বলেন, "একটি বৈঠকে সাংগঠনিক বিষয়ে মতানৈক্য হতেই পারে। কিন্তু কেউই শালীনতার সীমা অতিক্রম করেননি। ন্যূনতম সীমাও কেউ লঙ্ঘন করেননি।"

সভাপতির দাবি, সংবাদে অতিরঞ্জন করা হয়েছে

রোববারের সভা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম বলেন, সভায় বিভিন্ন নেতা তাঁদের মতামত তুলে ধরেছেন, যা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম ঘটনাকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে।

আবদুল মোনায়েম বলেন, "সভায় বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা হয়েছে। সবাই নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। একটি সংগঠনের সভায় এমন আলোচনা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিছু গণমাধ্যম যুবদলকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা সিন্ডিকেট করে সংবাদ প্রকাশ করেছে। অথচ তারা আমার কিংবা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেনি। তাদের কাছে কোনো অডিও বা ভিডিও প্রমাণও নেই।"

'নেতৃত্বে কোনো বিরোধ নেই'

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে নয়াপল্টনে মুলতবি সভা পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন যুবদল সভাপতি।

তিনি সভাকক্ষে উপস্থিত সাধারণ সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ নেতাদের দেখিয়ে বলেন, সংগঠনের নেতৃত্ব সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে কাজ করছে এবং তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের বিরোধ বা বিভক্তি নেই।

এক মাস আগে ঘোষণা হয়েছিল পূর্ণাঙ্গ কমিটি

গত ৪ জুন জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটি ঘোষণার ঠিক এক মাসের মাথায় অনুষ্ঠিত এই জরুরি পর্যালোচনা সভাকে ঘিরে নেতৃত্বের মধ্যে মতবিরোধ, কমিটিতে বিতর্কিত বা অপেক্ষাকৃত অপ্রচলিত নেতাদের অন্তর্ভুক্তি এবং সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসে।

সাংগঠনিক সপ্তাহের মূল্যায়নে বসেছিল কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব

যুবদল ২৩ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সারা দেশে ‘সাংগঠনিক সপ্তাহ’ পালন করে। এ কর্মসূচির আওতায় কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে ১০টি পৃথক টিম দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগ সফর করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে।

রোববারের জরুরি সভাটি মূলত ওই সাংগঠনিক সপ্তাহের কার্যক্রম মূল্যায়নের উদ্দেশ্যে ডাকা হয়েছিল। তবে মূল্যায়ন বৈঠকে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রম নিয়ে নেতাদের মধ্যে মতবিনিময় ও সমালোচনার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে, যা পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স