ঢাকা

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যস্ততা নিয়ে সংসদে স্পিকারের পর্যবেক্ষণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার পাশাপাশি সৃষ্টি হয় হালকা হাস্যরসের পরিবেশ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–সংক্রান্ত আলোচনার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, “সো বিজি”। একই অধিবেশনে সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক করেন তিনি। অন্যদিকে নৌ পুলিশ স্থাপনের দাবি নিয়ে আলোচনার সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের একটি মন্তব্যেও সংসদে হাসির রোল ওঠে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে স্পিকারের মন্তব্য

অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধির আওতায় জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশের ওপর আলোচনা চলছিল। এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা ও সেবার মান নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন।

বক্তব্যের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন কিছুটা অমনোযোগী থাকায় তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন স্পিকার।

স্পিকার পরপর দুবার “মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী” বলে সম্বোধন করলেও মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি। এরপর হালকা রসিকতার সুরে স্পিকার বলেন, “সো বিজি।”

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি খেয়াল করলে স্পিকার বলেন, “আপনার উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন সদস্য, একটু দয়া করে শুনুন।”

এরপর সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম তাঁর নোটিশের বিষয়ে বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।

সংসদে মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক করলেন স্পিকার

একই অধিবেশনে সংসদ কক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়েও সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন স্পিকার।

বিলের ওপর আলোচনা চলাকালে একজন সংসদ সদস্যকে প্রকাশ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখে তিনি বিষয়টি উত্থাপন করেন।

স্পিকার বলেন, “সংসদে কেউ কেউ টেলিফোন ব্যবহার করেন একটা আড়াল রেখে। আপনি তো খুল্লাম খুল্লা ইউজ করছেন।”

তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, সংসদের কার্যক্রম চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার সংসদীয় রীতিনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

স্পিকার আরও বলেন, “অনুগ্রহ করে সংসদে ফোন ব্যবহার করবেন না। এটি রীতিবিরুদ্ধ। এটি সবার জন্য প্রযোজ্য। সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন, এটাই আমি আশা করি।”

নৌ পুলিশ নিয়ে আলোচনায় হাস্যরস

অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন কুষ্টিয়ার নদীপথে নৌ পুলিশের একটি থানা স্থাপনের দাবি উত্থাপন করেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি ভুলবশত পানিসম্পদমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কথা শুরু করলে স্পিকার জানতে চান, তিনি আসলে নৌ পুলিশের থানা স্থাপনের আবেদন করছেন কি না।

ফরিদা ইয়াসমিন জানান, তিনি নদীপথে আইনশৃঙ্খলা জোরদারের স্বার্থে নৌ পুলিশের থানা স্থাপনের দাবি জানাচ্ছেন।

এরপর স্পিকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের দিকে তাকিয়ে রসিকতার ছলে বলেন, “মাননীয় প্রাণিসম্পদমন্ত্রী, আপনার আন্ডারে আছে নাকি থানা–পুলিশ? কিছু উত্তর দিন।”

‘মুরগি নিয়ে আছি, পুলিশ আমার সঙ্গে নেই’

স্পিকারের প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীও হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, “না, মুরগি নিয়ে আছি, পুলিশ আমার সঙ্গে নাই।”

মন্ত্রীর এই মন্তব্যে সংসদ কক্ষে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে।

তবে পরে তিনি বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, নদীপথে কেউ যদি সংরক্ষিত জলাশয়ের মাছ অবৈধভাবে শিকার করে, তাহলে তিনি বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনতে এবং প্রয়োজন হলে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের অনুরোধ করতে পারেন। এর বাইরে নৌ পুলিশ স্থাপনের বিষয়ে তাঁর মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কোনো এখতিয়ার নেই।

আলোচনার মধ্যেও সংসদীয় শৃঙ্খলার বার্তা

মঙ্গলবারের অধিবেশনে জরুরি জনস্বার্থ–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হলেও স্পিকারের বক্তব্যে সংসদীয় শৃঙ্খলা, মন্ত্রীদের মনোযোগ এবং অধিবেশন চলাকালে আচরণবিধি মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

একই সঙ্গে অধিবেশনের বিভিন্ন মুহূর্তে স্পিকার ও মন্ত্রীদের সংক্ষিপ্ত রসিকতাও সংসদের পরিবেশকে কিছু সময়ের জন্য প্রাণবন্ত করে তোলে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স