ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করেছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকরা ভাড়াটে সেনা হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। সংস্থাটির প্রকাশিত একটি ফোনালাপের অডিওতে একজন রুশ সেনাকে দুই বাংলাদেশি যোদ্ধার কথা বলতে শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এ দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গোয়েন্দা অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গোয়ারা মিডিয়া (Gwara Media)।
ফোনালাপে দুই বাংলাদেশির উল্লেখ
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, তারা রুশ সেনাদের একটি টেলিফোন কথোপকথন আড়ি পেতে শুনেছে। ওই কথোপকথনে একজন রুশ সেনাকে বলতে শোনা যায়, তিনি বাংলাদেশ থেকে আসা দুই বিদেশি ভাড়াটে সেনাকে খুঁজে পেয়েছেন।
গোয়েন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলের যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান হারিয়ে ফেলেছিলেন।
ফোনালাপে সংশ্লিষ্ট রুশ সেনা জানান, তিনি ওই বাংলাদেশিদের কল সাইন বা সামরিক যোগাযোগের কোড কিংবা তারা কোন ইউনিটে অবস্থান করছিলেন—সে বিষয়ে কিছুই জানতেন না।
‘রুবি’ ও ‘মইসেল’ নামে পরিচয়
প্রকাশিত অডিওর বরাত দিয়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দারা দাবি করেছেন, রুশ সেনা ওই দুই বাংলাদেশি যোদ্ধার নাম ‘রুবি’ এবং ‘মইসেল’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে এগুলো তাদের প্রকৃত নাম নাকি সামরিক পরিচয়—সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
গোয়েন্দা সংস্থার দাবি অনুযায়ী, ওই দুই ব্যক্তি রুশ সেনাকে একটি প্রতীকের ছবিও দেখিয়েছিলেন। সেখানে একটি বাঘের মুখের প্রতীক ছিল এবং তার নিচে ‘ষষ্ঠ অ্যাসল্ট (ব্রিগেড)’ লেখা ছিল।
তবে ওই ইউনিটটি রুশ বাহিনীর কোন অংশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিদেশি যোদ্ধাদের নিয়েও অভিযোগ
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা অধিদপ্তর অভিযোগ করেছে, রুশ সামরিক নেতৃত্ব শুধু নিজেদের সেনাদেরই নয়, বিদেশি ভাড়াটে যোদ্ধাদেরও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পাঠাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করে, বিদেশি যোদ্ধাদেরও এমন সব অভিযানে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে তাদের প্রাণহানির ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
খারকিভে বিদেশি যোদ্ধার উপস্থিতির দাবি
এর আগে গত মার্চে খারকিভ অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ভিক্টর ট্রেহুবভ দাবি করেছিলেন, খারকিভ ফ্রন্টে রুশ বাহিনীর সঙ্গে বিদেশি যোদ্ধাদের উপস্থিতি ইউক্রেনের অন্যান্য যুদ্ধাঞ্চলের তুলনায় বেশি।
তার মতে, বিভিন্ন দেশের নাগরিক রাশিয়ার পক্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিচ্ছেন।
স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি
ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার প্রকাশিত ফোনালাপ এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার দাবিটি এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রকাশিত অডিওর সত্যতা, এতে উল্লেখ করা ব্যক্তিদের জাতীয়তা কিংবা তারা প্রকৃতপক্ষে রুশ বাহিনীর সদস্য বা ভাড়াটে যোদ্ধা ছিলেন কি না—এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
একইভাবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি।
যুদ্ধের সঙ্গে বিদেশি যোদ্ধাদের সম্পৃক্ততা
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষেই বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নেওয়ার খবর একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি স্বেচ্ছাসেবক, ভাড়াটে যোদ্ধা এবং চুক্তিভিত্তিক সেনাদের উপস্থিতি এই যুদ্ধের একটি আলোচিত দিক। তবে এ ধরনের দাবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন উৎসের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুদ্ধকালীন সময়ে উভয় পক্ষই তথ্যযুদ্ধ বা প্রচারণামূলক বক্তব্য ব্যবহার করে থাকে।
এ কারণে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ এই দাবিকেও এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।