ঢাকা

ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু: বিচার বিভাগে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
suprim court suprim court

বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে পুলিশ, প্রশাসন, এবং বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় রাতের ভোট পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে, বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে।

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) রেজাউল করিম এবং সাবেক অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম (এসিএমএম) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূরকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং ১৫ দিনের মধ্যে তাদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের পর বিচার বিভাগের মধ্যে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়ে যায়। এই সময়ে বিচার বিভাগের অনেক কর্মকর্তা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার মধ্যে নিয়োগ-বাণিজ্য, বদলি এবং মামলার তদবির অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই কর্মকর্তাদের ব্যাপারে দুদকেও অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তাদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখছে মন্ত্রণালয়।

বিশেষত, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সময় বিচার বিভাগে অনেক অনিয়ম ঘটেছে। তার নেতৃত্বে অনেক বিচারক অবৈধভাবে চাকরি পেয়েছেন এবং টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সাবেক আইন সচিব, যুগ্ম সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠেছে। এই ঘটনায়, আইন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে, যা এসব কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত করবে।

বিকাশ কুমার সাহার বিরুদ্ধে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও উঠেছে। তিনি বিভিন্ন আদালতে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন এবং পরে তা আত্মসাৎ করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া, ঢাকার সাবেক সিএমএম রেজাউল করিম এবং সাবেক এসিএমএম আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, যে তারা সজীব ওয়াজেদ জয়কে আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল দায়িত্বে অবহেলা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে।

ঢাকার সাবেক সিএমএম রেজাউল করিম চৌধুরী এবং তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। তিনি জব্দকৃত আলামত এবং সিএমএম পদের প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্লট বরাদ্দ, বাড়ি নির্মাণ এবং হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করা।

এই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত এবং পদক্ষেপ গ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স