ঢাকা

রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশের আয়োজনে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে ‘ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্‌যাপিত হয়েছে ‘ওয়ার্ল্ড পোয়েট্রি ডে ২০২৬’। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস এবং রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হলে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশেষ সম্মানিত অতিথি (গেস্ট অব অনার) ছিলেন সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান দেশের তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা ধারণ করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান এবং তাঁদের অবদান ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে শিক্ষিত তরুণদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। এ সময় তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষা পরিবেশ, একাডেমিক কার্যক্রম এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক এম মোফাজ্জল হোসেন, স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ শামসুল হক, স্কুল অব ল–এর ডিন অধ্যাপক ফারহানা হেলাল মেহতাব, রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশের সভাপতি আব্বাস ফারুক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গৌরাঙ্গ মোহান্তো এবং সাধারণ সম্পাদক তালুকদার লাভলী। বক্তারা সাহিত্যচর্চার প্রসার, তরুণ লেখকদের বিকাশ এবং বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সংযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এবারের আয়োজনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রথিতযশা কবি ও সাহিত্যিকদের পাশাপাশি এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও ওশেনিয়া—এই পাঁচ মহাদেশের প্রায় ১৫টি দেশের খ্যাতিমান কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক সরাসরি এবং ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হন। তাঁদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করে এবং বৈশ্বিক সাহিত্য ও সংস্কৃতির আদান-প্রদানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব কবিতা দিবসের তাৎপর্য, সমকালীন কবিতা, সাহিত্যচর্চার বর্তমান ধারা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে কবিতার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, সাহিত্যবিষয়ক মতবিনিময় এবং সৃজনশীল চর্চার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল কবিতা ও প্রবন্ধ ক্যাটাগরিতে আয়োজিত প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত বিজয়ীদের সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের প্রতিযোগিতা তরুণদের সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করবে এবং নতুন প্রজন্মের লেখক ও গবেষক তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাইটার্স ওয়েব বাংলাদেশের সদস্য এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আয়োজকরা জানান, সাহিত্য, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে ভবিষ্যতেও জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাহিত্যচর্চার বিস্তার এবং তরুণদের সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স