ঢাকা

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ইটভাটায় ডেকে হাত-পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, ৪ জনের নামে মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বন্ধুদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গত রোববার রাত ১০টার দিকে সিঙ্গাইর উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত তরুণের বাবা মনির হোসেন গতকাল সোমবার রাতে সিঙ্গাইর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আহত তরুণ কে

আহত মো. বশিরের বয়স ২১ বছর। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চক গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মনির হোসেনের ছেলে।

বশির নিষিদ্ধ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগের উপকর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করেছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম। বশিরের বড় ভাই রবিউল ইসলামও তাঁর ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যেভাবে হামলার ঘটনা

পুলিশ, মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাত ১০টার দিকে বশির তাঁর বন্ধু সুমনকে সঙ্গে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাঁর আরেক বন্ধু আকাশ মোল্লা কৌশলে তাঁকে সিঙ্গাইরের ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে যান।

পরিবারের দাবি, সেখানে আগে থেকেই মামলার অন্য আসামিরা অবস্থান করছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইটভাটায় পৌঁছানোর পর আকাশসহ অন্যরা বশিরকে ঘিরে ফেলেন। তাঁদের হাতে রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রড ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বশিরের মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান। এরপর তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো ও অন্যান্য অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বশিরের দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

মৃত ভেবে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বশিরকে মৃত মনে করে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বর্তমানে বশির সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে অবস্থান করছেন বড় ভাই রবিউল ইসলাম।

‘হামলাকারীরা সবাই তাঁর বন্ধু’

রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁর ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পূর্বশত্রুতার জেরে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে বলে পরিবারের ধারণা। তবে কী কারণে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন।

রবিউলের ভাষ্য, হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বশিরের পরিচিত ও বন্ধু। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বশিরের শারীরিক অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয়।

বশিরের বাবা মনির হোসেনও ছেলের ওপর হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইন অনুযায়ী শাস্তির দাবি করেছেন।

চারজনের নাম উল্লেখ করে মামলা

হামলার ঘটনায় করা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গুজুরির চর গ্রামের আকাশ মোল্লা (২১), সিঙ্গাইর উপজেলার ডেফলতলী গ্রামের আরিফ হোসেন (২০), চর কৃষ্ণপুর গ্রামের তানজিদ হোসেন (২২) এবং ভাড়াই ভিকরা গ্রামের মো. তুহিন (২১)।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মামলার আসামিরা সবাই বশিরের বন্ধু।

এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে

সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, আহত তরুণের পরিচিত ও বন্ধুদের বিরুদ্ধে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার পেছনের কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা গেলে হামলার কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স