ঢাকা

বিদেশে পড়তে আগ্রহীদের জন্য ১৮ দেশের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিয়ে মেলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ব্রিটিশ কাউন্সিল ও প্রথম আলোর আয়োজনে ১৬ ও ১৭ অক্টোবর ঢাকায় বসছে স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬। এতে অংশ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষাপরামর্শক প্রতিষ্ঠান এডুকেশন অ্যাট। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে বিদেশে ভর্তি, বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, বৃত্তি, টিউশন ফি ও ভিসাপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ নিতে পারবেন। পাশাপাশি ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে অনলাইন মেলা।

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির শর্ত, বৃত্তি এবং ভিসাপ্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে ব্রিটিশ কাউন্সিল ও প্রথম আলোর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬’। এ আয়োজনে অংশ নিচ্ছে আন্তর্জাতিক শিক্ষাপরামর্শক প্রতিষ্ঠান এডুকেশন অ্যাট (Education AT)। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারবেন আগ্রহী শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকেরা।

দুই দিনব্যাপী এ মেলা আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মেলার ওয়েবসাইটে চলবে ১০ দিনব্যাপী অনলাইন আয়োজন। আগ্রহীরা স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইন মেলা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

মেলায় এডুকেশন অ্যাটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাডেমিক যোগ্যতা, পছন্দের বিষয়, আর্থিক সামর্থ্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন। কোন দেশে কোন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে, কোথায় বৃত্তি পাওয়া যেতে পারে, ভর্তির জন্য কী ধরনের যোগ্যতা প্রয়োজন এবং ভিসা আবেদনের প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে—এসব বিষয়েও পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

১৮টি দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ

এডুকেশন অ্যাট ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, স্পেন, ইতালি, ডেনমার্ক, সাইপ্রাস, গ্রিস, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, হাঙ্গেরি, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও বেলজিয়ামসহ বিশ্বের ১৮টি দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে থাকে তারা।

দেশভেদে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির যোগ্যতা, টিউশন ফি, বৃত্তির সুযোগ, ইংরেজি ভাষাদক্ষতার শর্ত এবং ভিসার নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করার সময় শুধু পছন্দের দেশ নির্বাচন করলেই হয় না; শিক্ষার্থীর একাডেমিক ফলাফল, আর্থিক সামর্থ্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের লক্ষ্যও বিবেচনায় নিতে হয়।

এডুকেশন অ্যাটের দাবি, তাদের পরামর্শসেবার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রোগ্রাম সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন। স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা এসব বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ পাবেন।

৪৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা

এডুকেশন অ্যাটের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরাসরি অ্যাফিলিয়েশন রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৩০ জন পেশাদার শিক্ষার্থী পরামর্শক কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে PIER, NAFSA ও ICEF-এর প্রশিক্ষণ বা স্বীকৃতিসংশ্লিষ্ট কাউন্সেলর রয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিমালা, একাডেমিক যোগ্যতা, ইংরেজি ভাষাদক্ষতার প্রয়োজনীয়তা, বৃত্তির শর্ত এবং ভিসা আবেদনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়ম আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করা প্রয়োজন।

এডুকেশন অ্যাটের কাউন্সেলররা শিক্ষার্থীদের এসব শর্ত বুঝতে এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা পেতে সহায়তা করেন। তবে ভর্তি, বৃত্তি ও ভিসার সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন থেকে ভিসার প্রস্তুতি

বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোন দেশে পড়লে তাঁদের জন্য সুবিধাজনক হবে, কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা সম্ভব, পছন্দের বিষয়ে পড়ার জন্য কী যোগ্যতা প্রয়োজন এবং পড়াশোনার খরচ কীভাবে বহন করবেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় দেশ ও শহরভেদে ভিন্ন হতে পারে। আবার বৃত্তির সুযোগ থাকলেও তার যোগ্যতা, অর্থের পরিমাণ ও আবেদনের সময়সীমা একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক রকম।

এডুকেশন অ্যাটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের একাডেমিক প্রোফাইল, পছন্দের বিষয়, বাজেট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রাম নির্বাচন সম্পর্কে পরামর্শ নিতে পারেন। পাশাপাশি ভর্তি আবেদন প্রস্তুত, প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ, বৃত্তির সম্ভাবনা যাচাই এবং ভিসা আবেদনের প্রস্তুতি সম্পর্কেও সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার আগে তার আনুষ্ঠানিক ওয়েবসাইট থেকে ভর্তি-শর্ত, ফি, বৃত্তি এবং ভিসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা। এতে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আবেদন করা কিংবা অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের মুখে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ঢাকা, সিলেট ও দুবাইয়ে কার্যক্রম

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ঢাকা ও সিলেটের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়েও এডুকেশন অ্যাটের কার্যক্রম রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটিতে পৃথক অ্যাডমিশন ও কমপ্লায়েন্স টিম কাজ করছে।

ভর্তি আবেদনের নথিপত্র প্রস্তুত, বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এসব দলের ভূমিকা রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান

এডুকেশন অ্যাটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই যথেষ্ট নয়। একজন শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় সঠিক দেশ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ কাউন্সেলরদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সরাসরি পরামর্শের সুযোগ

স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬-এ এডুকেশন অ্যাটের অংশগ্রহণ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য বিভিন্ন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জানার একটি সুযোগ তৈরি করছে।

মেলায় সরাসরি প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি অনলাইন আয়োজনের মাধ্যমেও তথ্য নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সম্ভাব্য গন্তব্য, পড়াশোনার ব্যয়, বৃত্তির সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পারবেন।

বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত ও খরচ তুলনা করা, বৃত্তির যোগ্যতা যাচাই করা এবং ভিসার সর্বশেষ নিয়ম সম্পর্কে জানা জরুরি। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করলে শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত উচ্চশিক্ষার পথ নির্বাচন করা সহজ হতে পারে।

মেলার তথ্য: স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ার ২০২৬
স্থান: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা
তারিখ: ১৬ ও ১৭ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন মেলা: ১৬–২৫ অক্টোবর ২০২৬
ওয়েবসাইট: www.studyabroadfair.pro

তথ্যসূত্র: আয়োজক ও এডুকেশন অ্যাটের দেওয়া তথ্য।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স