ঢাকা

‘সাতক্ষীরার হত্যাকাণ্ডে জামায়াতকে জড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়’: পরওয়ার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও বিচারের দাবি দলটির সেক্রেটারি জেনারেলের; ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রথমে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে সেখান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও পিটুনির শিকার হন শামীম

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অভিযোগ করে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাতক্ষীরার দেবহাটায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ধরনের প্রচেষ্টার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো রাজনৈতিক দলকে ঘটনার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, শামীমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া সমর্থন করে না জামায়াত

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার বিচার করার দায়িত্ব আইন ও আদালতের। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা গণপিটুনি দিয়ে কাউকে বিচারবহির্ভূতভাবে শাস্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না বলেও তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধের প্রকৃত তথ্যপ্রমাণ যাচাই না করে কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনকে দায়ী করা হলে প্রকৃত ঘটনা আড়ালে পড়ে যেতে পারে। একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং জনমনে ভুল ধারণা তৈরির চেষ্টা অনভিপ্রেত।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিহত শামীমের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রচার করা উচিত নয়।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটুনির পর হাসপাতালে মৃত্যু

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দফায় দফায় পিটুনির শিকার হয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে প্রথম দফায় মারধরের পর পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। পরে রাতে একদল লোক হাসপাতাল থেকে তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে আবারও মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি ঘটে ১৩ অক্টোবর, মঙ্গলবার। ওই দিন বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শামীমকে মারধরের খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

এরপর রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে একদল লোক ওই হাসপাতালে প্রবেশ করে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁকে আবারও মারধর করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সাতক্ষীরায় নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।

নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি

শামীমের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করার অভিযোগ অস্বীকার করে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল নিরপেক্ষ তদন্তের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, তাঁকে প্রথমে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা এবং পরে হাসপাতাল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধরের বিষয়গুলো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের গুরুত্ব তুলে ধরে।

তবে জামায়াতে ইসলামীকে এ ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টার অভিযোগটি মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিবৃতিতে উত্থাপিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং এর পেছনে কী পরিস্থিতি কাজ করেছে, তা নির্ধারণে তদন্তের ফল ও যাচাই করা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শামীমের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী বিচার নিশ্চিত করাও জরুরি।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স