ঢাকা

সাংবাদিক আলিফের শরীরে ছয়টি গুলির চিহ্ন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের ময়নাতদন্তে শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায় এবং একটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

শুক্রবার রাতে দায়ের করা মামলায় সাত থেকে আটজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে তাঁর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শনিবার সকালে তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত এবং তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।

ময়নাতদন্তে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, আলিফের বুকে তিনটি গুলির আঘাত ছিল। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়, অন্যটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া কপালের ডান দিক দিয়ে ঢুকে একটি গুলি মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির আঘাত ছিল মাথার ওপরের অংশের চামড়া ও ডান কাঁধের পাশের চামড়ায়।

ক্ষতচিহ্ন পর্যবেক্ষণ করে চিকিৎসকের প্রাথমিক ধারণা, আলিফকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি অনিয়ম নিয়ে লিখতেন আলিফ

লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে লেখার পাশাপাশি ভিডিও প্রকাশ করতেন তিনি।

আলিফ কলমাকান্দা উপজেলার পোগলা ইউনিয়নের সুনই গ্রামের মহব্বত আলী ফকিরের ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে তেলনজিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন।

স্বামীকে হারিয়ে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আনন্দিতা সাংমা। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

যেভাবে হামলার শিকার হন সাংবাদিক আলিফ

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাত আটটার দিকে তেলনজিয়া এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করেন আলিফ। পরে বিরিশিরি উতরাইল বাজারের দিকে রওনা দেন। কিছুক্ষণ পর বুঝতে পারেন, নিজের মুঠোফোনটি দোকানে ফেলে এসেছেন। তাই কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার দোকানে ফিরে যান।

তিনি ফোন নিয়ে বের হওয়ার সময় দুই যুবক দোকানে এসে সিগারেট চান। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়েন তাঁরা। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে আলিফকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত বলে মনে হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা এবং একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন আলিফ

এর আগে গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুর উপজেলার সোমেশ্বরী নদীর তেরিবাজার ঘাট এলাকায় দুর্বৃত্তরা আলিফকে কুপিয়ে আহত করেছিল। ওই সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও অস্ত্র দেখিয়ে ধাওয়া করা হয়। এ ঘটনায় আলিফের করা মামলায় পুলিশ নাম উল্লেখ থাকা দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।

আলিফের বড় ভাই শহীদ ইসলাম ফকিরের অভিযোগ, সাংবাদিকতার কারণে তাঁর ভাইয়ের অনেক শত্রু তৈরি হয়েছিল। তিনি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স