ঢাকা

চুয়েটে দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তি আজ, নির্দেশনা জারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি–সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ নির্ধারিত মেধাক্রমভুক্ত প্রার্থীদের সনদপত্র যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। নিরীক্ষা বোর্ডের তত্ত্বাবধানে যাচাই–বাছাই শেষে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়।


কারা ডাকা হয়েছে

দ্বিতীয় পর্যায়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে মূল মেধাক্রমের ১,২৫১ থেকে ২,৫০০ পর্যন্ত প্রার্থীদের ডাকা হয়েছে।

সংরক্ষিত কোটায়—

  • পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলার ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী (উপজাতি) থেকে মেধাক্রম ১১ থেকে ২০

  • রাখাইন সম্প্রদায়ের মেধাক্রম ০২

  • স্থাপত্য বিভাগে মেধাক্রম ৭৬ থেকে ১২৫

অন্তর্ভুক্ত প্রার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য নির্ধারিত লিংকে লগইন করে অনলাইন চয়েজ ফরম পূরণ করতে হয়। পূর্বে পূরণ করা ফরম ও ড্যাশবোর্ডে নির্দেশিত অন্যান্য কাগজপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট কপি সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে।

যেসব প্রার্থী আগে অনলাইন চয়েজ ফরম পূরণ করেননি, তাদের ভর্তির দিনই তা পূরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।


স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ফি জমা

সনদ যাচাই শেষে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। প্রত্যেককে স্বীকৃত ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে প্রাপ্ত রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে। চশমা ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের চশমা সঙ্গে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আগামীকাল বুধবার সকালে প্রাপ্ত বিভাগ দেখে নির্ধারিত ভর্তি ফি ১৮ হাজার ৫০০ টাকা সোনালী ব্যাংক, চুয়েট শাখায় বেলা ৩টার মধ্যে জমা দিতে হবে। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্নের পর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে একই দিনেও ফি জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।


প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ভর্তি কার্যক্রমে অংশ নিতে প্রার্থীদের যে কাগজপত্র জমা দিতে হবে—

  • মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষার মূল সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট

  • উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ট্রান্সক্রিপ্টের মূল কপি

  • শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রশংসাপত্র

  • সদ্য তোলা (৩ মাসের মধ্যে) ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি

  • হল প্রত্যবেক্ষকের স্বাক্ষর–সংবলিত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র

সংরক্ষিত আসনের ক্ষেত্রে রাখাইন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী প্রার্থীদের জেলা প্রশাসক/পৌরসভা/জেলা পরিষদ/ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং উপজাতীয় মোড়লের কাছ থেকে প্রাপ্ত দুটি মূল সনদ দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কলেজের অধ্যক্ষ কর্তৃক ইস্যুকৃত উপজাতীয়তার সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) জমা দিতে হবে।


পরবর্তী ধাপ ও অটো মাইগ্রেশন

দ্বিতীয় পর্যায়ের ভর্তি শেষে প্রাপ্ত বিভাগ ও শূন্য আসনের সংখ্যা ১২ মার্চের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এরপর পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে।

আসন খালি থাকা সাপেক্ষে ওরিয়েন্টেশনের দিন পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া চলবে। ভর্তি বাতিলের কারণে কোনো আসন শূন্য হলে মেধাক্রম ও পছন্দক্রম অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় (অটো) মাইগ্রেশন কার্যক্রম চালু থাকবে।


প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি ভর্তি পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়। ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম ধাপ শেষে ৯২০টি আসনের মধ্যে ৬০৫টি আসন ফাঁকা রয়েছে, যা মোট আসনের প্রায় ৬৬ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, দ্বিতীয় ও পরবর্তী ধাপের মাধ্যমে অধিকাংশ শূন্য আসন পূরণ করা সম্ভব হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স