ঢাকা

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়ার বিদ্যমান পদ্ধতি পর্যালোচনা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ২০২৭ সালের জন্য নতুন ভর্তিপদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)’র এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

শহরে বেশি ভর্তি চাপ

মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিয়ে চাপ মূলত শহরাঞ্চলে বেশি, বিশেষ করে ঢাকা শহরে। সেখানে নামকরা সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা যায়। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় সেসব এলাকায় সাধারণত ভর্তির জন্য তেমন প্রতিযোগিতা থাকে না।

তিনি বলেন, শহরের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির চাপ সামাল দিতে সরকার আগে লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি চালু করেছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, এ পদ্ধতি খুব বেশি যৌক্তিক নয়।

মন্ত্রী বলেন, “লটারিভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। তাই ২০২৭ সালের ভর্তিপদ্ধতি নির্ধারণের আগে অভিভাবক, শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া হবে।”

২০২৭ সালের আগে হবে সেমিনার ও আলোচনা

ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে সেমিনার, গোলটেবিল আলোচনা এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে জনমত গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “যে পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে ন্যায্য এবং কার্যকর হবে, সেই পদ্ধতি নির্ধারণের লক্ষ্যেই আমরা এই আলোচনা ও পর্যালোচনা করছি।”

লটারিভিত্তিক ভর্তি নিয়ে উদ্বেগ

সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত তাঁর প্রশ্নে প্রাথমিক স্তরে মেধাভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি থেকে লটারিভিত্তিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এর ফলে ফিডার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

তার মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে মেধা যাচাইয়ের সুযোগ না থাকলে শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক মান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থা সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বর্তমানে একাধিক ধারা রয়েছে—বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, মাদ্রাসা ও কওমি শিক্ষা। এসব ধারাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি জানান, ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় আনতে একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইবতেদায়ি (প্রাথমিক মাদ্রাসা) শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং কওমি শিক্ষাকে কীভাবে বৃহত্তর জাতীয় শিক্ষাকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য

মন্ত্রী বলেন, “ভবিষ্যতে যাতে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা আরও সমন্বিত ও মানসম্মত হয়, সে লক্ষ্যেই ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধারার শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এমন একটি ভর্তিপদ্ধতি চালু করা সম্ভব হবে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য, স্বচ্ছ এবং কার্যকর হবে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স