ঢাকা

হানজালার অভিযোগ: ‘জঙ্গি এমপি’ যাচ্ছেন, তদন্ত দাবি সংসদে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদে এক বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অবমাননাকর সম্বোধনের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ (হানজালা) জানান, তিনি স্পিকারের সহধর্মিণীর জানাজায় অংশ নিতে গেলে একজন তাকে দেখে সম্বোধন করেন, “ওই যে জঙ্গি এমপি যাচ্ছে।” হানজালা বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করে তদন্তের দাবি জানান।

ঘটনার বিবরণ

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে শুরু হয়। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হানজালা বলেন, “৩০ মার্চ দক্ষিণ প্লাজা থেকে সংসদে প্রবেশ করার সময় আমাকে ওইভাবে সম্বোধন করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হচ্ছে। এটি জাতীয় সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সম্ভবত তার মাথায় পাগড়ি এবং সাদা পাঞ্জাবি–সুন্নতে রাসুল (সা.) থাকার কারণে তাকে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। হানজালা স্পষ্ট করেন, ইসলামের সুন্নত কোনো দিন জঙ্গির প্রতীক হতে পারে না। তিনি স্পিকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন, সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে ঘটনার সঠিক তদন্ত করা হোক।

নারী সংসদ সদস্যের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও সংসদে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, তার ও অন্য নারী সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে। তিনি স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচার চেয়েছেন।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিষয়টি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি হানজালা ও রুমিন ফারহানাকে নোটিশ প্রদানের মাধ্যমে প্রতিকার নেয়ার পরামর্শ দেন।

স্পিকার জবাবে বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ওপর পয়েন্ট অব অর্ডার আনা যাবে না। সংবাদপত্র স্বাধীন; মানহানিকর বা অরুচিকর বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রেস কাউন্সিল ও তথ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, “সংসদের অসীম ক্ষমতা রয়েছে।”

এই ঘটনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের মধ্যে সংসদ সদস্যদের সম্মান রক্ষার গুরুত্ব এবং বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য প্রতিরোধের প্রয়োজন পুনরায় তুলে ধরা হলো। হানজালা ও রুমিন ফারহানার দাবি অনুযায়ী সংসদীয় তদন্ত ও সঠিক প্রতিকার গ্রহণ করা হলে এ ধরনের ঘটনায় সংসদের মর্যাদা রক্ষিত হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স