ঢাকা

বিএনপির সংরক্ষিত আসন তালিকায় সাবেক নেতা ১০, সংখ্যালঘু ৪, ভোটে হারা ৩ জন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঘোষিত এই তালিকায় দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য, ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেত্রী, পেশাজীবী, আইনজীবী এবং সংখ্যালঘু ও সামাজিক প্রতিনিধিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক অবদান, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সামাজিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই এই মনোনয়ন তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের অগ্রাধিকার

তালিকায় অভিজ্ঞ ও প্রবীণ রাজনীতিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ স্থান পেয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী Selima Rahman, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম (হীরা), রেহানা আক্তার, নিলোফার চৌধুরী (মনি), সুলতানা আহমেদ, বিলকিস ইসলাম, নেওয়াজ হালিমা আরলী, হেলেন জেরিন খান এবং শাম্মী আক্তার।

দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে সংরক্ষিত আসনে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আইনসভায় রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবার ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা

মনোনয়ন তালিকায় রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্য। বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, যিনি দলীয় যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকনের স্ত্রী।

এছাড়া তালিকায় রয়েছেন নিপুণ রায় চৌধুরী, যিনি ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে। আইনজীবী শাকিলা ফারজানা, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের কন্যা হিসেবে তালিকায় স্থান পেয়েছেন।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি), প্রয়াত নেতা নাসিরউদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর বোন, এবং শফিউল বারীর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইনও মনোনীত হয়েছেন।

সংখ্যালঘু ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব

সংরক্ষিত আসনে এবার সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা দেখা গেছে। উন্নয়নকর্মী ও ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর BRAC–এর আন্না মিনজ মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ওঁরাও ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে জানিয়েছেন।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে আরও রয়েছেন সুবর্ণা সিকদার ঠাকুর ও মাধবী মারমা। সুবর্ণা সিকদার শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, আর মাধবী মারমা বান্দরবান জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এবং মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচনে পরাজিতদের পুনর্বাসন

তালিকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত কয়েকজন প্রার্থীকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সানজিদা ইসলাম (তুলি), সাবিরা সুলতানা (মুন্নী) এবং সানসিলা জেবরিন (প্রিয়াঙ্কা)।

গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম ঢাকা-১৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সাবিরা সুলতানা যশোর-২ এবং সানসিলা জেবরিন শেরপুর-১ আসনে নির্বাচন করেন।

ছাত্রদল ও তরুণ নেতৃত্বের অন্তর্ভুক্তি

দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একাধিক নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আরিফা সুলতানা (রুমা), মানসুরা আক্তার, সানজিদা ইয়াসমীন (তুলি), নাদিয়া পাঠান (পাপন), শওকত আরা আক্তার (উর্মি) ও সেলিনা সুলতানা (নিশিতা)।

দলীয় সূত্র বলছে, আন্দোলনকালীন সক্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই তরুণ নেতৃত্বকে সংসদীয় রাজনীতিতে যুক্ত করা হচ্ছে।

পেশাজীবী, আইনজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব

তালিকায় পেশাজীবী ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্বও রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের মাহমুদা হাবিবা, আইনজীবী শামীম আরা বেগম (স্বপ্না), ফাহিমা নাসরিন, বগুড়া বিএনপির সুরাইয়া জেরিন, মহিলা দলের মমতাজ আলো, রংপুর মহানগরের রেজেকা সুলতানা এবং টক শো উপস্থাপক জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী ফাহমিদা হকও মনোনীত হয়েছেন।

মনোনয়ন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

তালিকা প্রকাশের পর বিএনপির ভেতরে ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সংগীতশিল্পী কনক চাঁপা, বেবী নাজনীন ও আসমা আজিজসহ আলোচিত কয়েকজনের বাদ পড়া নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে দলীয় একটি অংশ মনে করছে, এই মনোনয়ন তালিকায় অভিজ্ঞতা, পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সামাজিক প্রতিনিধিত্ব—সবকিছুরই একটি ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই তালিকা বিএনপির ভবিষ্যৎ সংসদীয় কৌশল এবং সংগঠন পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স