ঢাকা

ফিনটেক ও এআই প্রযুক্তির প্রভাবে বদলাবে ব্যাংকিং—শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনারে আলোচনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দেশের ব্যাংকিং খাতের দ্রুত রূপান্তর ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়-এ। ‘রিশেপিং দ্য ব্যাংকিং সেক্টর ইন বাংলাদেশ: দ্য রোল অব ফিনটেক অ্যান্ড এআই’ শীর্ষক এ সেমিনারে ফিনটেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারের মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন বক্তারা।

সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এতে অংশগ্রহণকারী বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং খাত দ্রুত ডিজিটাল ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে, যেখানে ফিনটেক ও এআই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন পূবালী ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু সেবার গতি বাড়াচ্ছে না, বরং তা গ্রাহকদের জন্য আরও নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকর সেবা নিশ্চিত করছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, স্বয়ংক্রিয় লেনদেন, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় এআই-এর ব্যবহার ব্যাংকিং খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে তরুণ শিক্ষার্থীদের ফিনটেক ও এআইভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হলে এসব খাতে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য বক্তারাও একই ধরনের মতামত তুলে ধরে বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতকে আধুনিক, দ্রুত এবং গ্রাহকবান্ধব করতে হলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে তথ্য নিরাপত্তা, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং উদ্ভাবনী সেবার উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

আলোচনায় আরও উঠে আসে, ফিনটেক ও এআই-এর সমন্বয়ে ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবার বিস্তার ঘটানো সম্ভব। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এসব প্রযুক্তির ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের সেমিনার শুধু একাডেমিক জ্ঞানচর্চার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাস্তব খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ব্যাংকিং খাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পথ আরও সুগম হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স