জ্বালানিসংকট নিরসন, রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার এবং গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তিসহ চার দফা দাবিতে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। বুধবার বিকেলে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা সাম্প্রতিক সহিংসতা ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ক্যাম্পাসজুড়ে মিছিল ও সমাবেশ
বিকেলে ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিলটি কলা ভবন, মধুর ক্যানটিন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসিতে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে ক্যাম্পাসের সাম্প্রতিক সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রতিবাদ জানান। ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াও’, ‘বিচার চাই, জবাব চাই’—এ ধরনের স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।
ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতার অভিযোগ
সমাবেশে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আবারও অস্ত্রের প্রদর্শন ও দখলদার রাজনীতি ফিরে আসছে।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের দিন চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর ভাষায়, “এই সহিংসতার মধ্যে কোনো আদর্শিক ছাত্ররাজনীতি নেই; আছে কেবল ক্ষমতার ভাগাভাগির লড়াই।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে কার্যকর বিরোধী দল না থাকায় রাজনৈতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
‘মব সহিংসতা’ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন-এর সভাপতি তানজিদ হায়দার চৌধুরী বলেন, মানুষের ন্যূনতম জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাংবিধানিক আলোচনার বাস্তব গুরুত্ব কমে যায়। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘মব সন্ত্রাসের বাংলাদেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ-এর সভাপতি সমর চাকমা অভিযোগ করেন, ‘মব থেরাপি’র নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও জমি দখলের ঘটনা বাড়ছে, যা উদ্বেগজনক।
চার দফা দাবি
সমাবেশ থেকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট চার দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলো হলো—
চলমান জ্বালানিসংকট ও কৃষকদের সেচ সমস্যার দ্রুত সমাধান
পীর শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীরসহ সব ‘মব সহিংসতা’ ও হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা
তাসনিম আফরোজ ইমি ও বিশ্বনাথ মহন্তসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তি
পার্বত্য অঞ্চলে সেনা অভিযান ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বন্ধ
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক চাপ—এই তিনটি ইস্যু একসঙ্গে সামনে চলে এসেছে। ফলে ছাত্র সংগঠনগুলোর আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত সামাজিক-রাজনৈতিক দাবির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
ক্যাম্পাসে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য পরিস্থিতি সামাল দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।