নতুন সিলেবাসে বাধ্যতামূলক ‘ইংলিশ’ ও ‘কমিউনিকেটিভ ইংলিশ’, শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে অবস্থান স্পষ্ট করল কর্তৃপক্ষ
স্নাতক পর্যায়ে নতুন করে ইংরেজি কোর্স অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় বলছে, শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও একাডেমিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (পাস ও সম্মান) প্রোগ্রামের নতুন সিলেবাসে প্রথম বর্ষে ‘ইংলিশ’ এবং দ্বিতীয় বর্ষে ‘কমিউনিকেটিভ ইংলিশ’ নামে দুটি কোর্স সংযোজন করা হয়েছে। এই কোর্সগুলো সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন কোর্স কাঠামো
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দ্বিতীয় বর্ষের সিলেবাসে ‘কম্প্রিহেনসিভ ইংলিশ’ নামে ৪ ক্রেডিটের একটি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়া, লেখা, শোনা ও বলার দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান সময়ের প্রতিযোগিতামূলক বাস্তবতায় ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা ছাড়া উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে থাকা কঠিন। সে বিবেচনায় এ ধরনের কোর্স সংযোজন সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
শিক্ষার্থীদের আপত্তি
তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাব্য সময় মাত্র দুই থেকে তিন মাস বাকি থাকতেই কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই নতুন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাঁদের জন্য চাপ তৈরি করছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, ইতোমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ইনকোর্স পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং মডেল টেস্টও শেষ হয়েছে। সামনে ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ নতুন কোর্স যুক্ত হওয়ায় প্রস্তুতিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের অবস্থান
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নতুন কোর্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক দক্ষতা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা আরও কার্যকর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত সব শিক্ষার্থীকেই নতুন এই কোর্স সম্পন্ন করতে হবে এবং এটি সিলেবাসের বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে গণ্য হবে।
সামগ্রিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষায় ইংরেজি দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় ও প্রস্তুতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আকস্মিক সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে, যা শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যকে ব্যাহত করতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।