ঢাকা

‘জুলাই ও আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে বিএনপি’: অভিযোগ পাটওয়ারীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ঐক্য প্রথম ভেঙেছে বিএনপি। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা বিকৃত করা এবং শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের সঙ্গে ‘গাদ্দারি’ করার ক্ষেত্রেও বিএনপিই প্রথম।

শুক্রবার রাত আটটার দিকে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি পৌর শহরের খাদ্যগুদাম মোড়ে অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গড়তে পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

এনসিপির হাকিমপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ পদযাত্রায় গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ–সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরা হয়।

‘জুলাইয়ের ঐক্য প্রথম নষ্ট করেছে বিএনপি’

বক্তব্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে যে রাজনৈতিক ঐক্যের সৃষ্টি হয়েছিল, সেটি টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে বিএনপি তা ভেঙে দিয়েছে।

তার ভাষায়, “বাংলাদেশে জুলাইয়ের যে ঐক্য হয়েছে, তা প্রথম ভঙ্গ করেছে বিএনপি। দ্বিতীয়ত, জুলাইকে প্রথম বিকৃতও করেছে বিএনপি। তৃতীয়ত, যদি জুলাই ও শহীদ আবু সাঈদের রক্তের সঙ্গে কেউ গাদ্দারি করে থাকে, সেটাও প্রথম করেছে বিএনপি।”

তিনি অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশা থেকে বিএনপি সরে এসেছে। ফলে জুলাই আন্দোলনের ঘোষিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

‘বিএনপি পরিবর্তন না হলে আবারও আন্দোলন হবে’

বিএনপির প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এনসিপির এই নেতা বলেন, দলটি যদি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে ভবিষ্যতেও তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তিনি বলেন, “বিএনপি যদি ঠিক হয়, তাহলে আবার বাংলাদেশে জুলাই ও ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, বিএনপি যদি একই ধরনের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও সামনে শক্ত লড়াই হবে।”

তার মতে, কোনো রাজনৈতিক দলই জনগণের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে কর্তৃত্ববাদী আচরণ করলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

গণভোট ও অর্থনৈতিক দাবিতে পদযাত্রা

এনসিপির এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দাবির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও জনজীবন-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ও গুরুত্ব পায়।

দলের পক্ষ থেকে গণভোট বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ–সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে সীমান্তে নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

ভারতের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা সারজিস আলমের

একই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এনসিপির আরেক নেতা সারজিস আলম। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে আচরণ প্রত্যাশা করে, বাস্তবে তা পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি অভিযোগ করেন, “যারা একজন গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেয়, ওসমান হাদীর হত্যাকারীকে আশ্রয় দেয়, আমার দেশকে ন্যায্য পানির হিস্যা বুঝিয়ে দেয় না, খরার সময় পানি আটকে রাখে, আবার বর্ষাকালে পানি ছেড়ে দিয়ে মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে, তারা কোনো দিন আমাদের বন্ধু হতে পারে না।”

তার দাবি, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্যই পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়সঙ্গত পানি বণ্টন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত।

রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াচ্ছে এনসিপির বক্তব্য

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রশ্নে বিএনপিকে সরাসরি দায়ী করে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের এই বক্তব্য দেশের চলমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের উত্তরাধিকার, রাজনৈতিক ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে যে মতপার্থক্য রয়েছে, এনসিপির এই বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে। বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স