ঢাকা

ট্রাম্পকে হত্যায় ১২৩ কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষণা, সোলাইমানি হত্যার প্রসঙ্গ আলোচনায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক (আইআরআই) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১ কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট মনিটর। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২৩.১২ টাকা) এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২৩ কোটি ১২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিস হত্যার জন্য দায়ী বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনটি দাবি করেছে, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের অনুদানের অর্থ থেকে এই পুরস্কারের তহবিল গঠন করা হয়েছে। বিবৃতিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় অভিযোগ আনা হলেও এসব বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সোলাইমানি ও আল-মুহান্দিসের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়াকে তারা তাদের আদর্শিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। পাশাপাশি সংগঠনটি দাবি করে, এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পর নতুন উত্তেজনা

এদিকে গালফ নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদির সঙ্গে এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে লক্ষ্য করে পরিচালিত মার্কিন হামলার সিদ্ধান্তে নিজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য মন্তব্যের পরই ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক নতুন বিবৃতি দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে পুরস্কার ঘোষণার বিষয়টি সামনে আনে।

২০২০ সালের সেই অভিযান

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিস।

তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন ওই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছিল, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও নাগরিকদের ওপর সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে ইরান ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো হামলাটিকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে আখ্যায়িত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স