২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। অর্থাৎ আগের বছরের মতো এবারও ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ, শিক্ষার্থীর ফলাফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় কলেজে ভর্তির মনোনয়ন দেওয়া হবে।
সরকার পরিবর্তনের পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আগের পদ্ধতিই বহাল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ফল প্রকাশের পর জানানো হবে ভর্তির সময়সূচি
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দু-এক দিনের মধ্যেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি ও নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে। তবে এখনই এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে তিনি রাজি হননি।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। এর আগে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়।
আগের নিয়মেই চলবে ভর্তি কার্যক্রম
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত যে সিদ্ধান্ত রয়েছে, তাতে এবারও আগের নিয়মেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যদিও বিভিন্ন কোটার বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা রয়েছে, তবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে প্রশাসনিক ও কারিগরি নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি এত অল্প সময়ের মধ্যে নতুন ভর্তি ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করাও কঠিন। সে কারণেই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।
যেভাবে ভর্তি হবে শিক্ষার্থীরা
গত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
এ ক্ষেত্রে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সময় সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচন করা যাবে।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষার ফল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে।
এই কেন্দ্রীয় ভর্তি ব্যবস্থা শুধু সাধারণ কলেজ ও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পৃথক ভর্তি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় পুরো অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
ফল প্রকাশ পিছিয়ে যাওয়ায় পিছোচ্ছে ভর্তি কার্যক্রম
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই প্রকাশের পরিকল্পনা থাকায় প্রাথমিকভাবে ৩০ জুলাই থেকে অনলাইনে ভর্তি আবেদন শুরু করার চিন্তা ছিল।
কিন্তু ফল প্রকাশের তারিখ ১০ আগস্ট নির্ধারণ হওয়ায় ভর্তি কার্যক্রমও পিছিয়ে যাচ্ছে। এখন নতুন সময়সূচি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং ভর্তি সম্পন্ন করার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, আগে ফল প্রকাশের প্রায় ১০ দিন পর ভর্তি আবেদন শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে এখন সরকারি ছুটি ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনায় নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
২৬ লাখের বেশি আসন, পরীক্ষার্থী ১৮ লাখের কিছু বেশি
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখেরও বেশি।
অন্যদিকে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।
পরীক্ষার প্রথম দিনই ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও আরও কিছু পরীক্ষার্থী অংশ নেয়নি। ফলে নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর তুলনায় বাস্তবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও কমেছে।
এবারও খালি থাকতে পারে বিপুলসংখ্যক আসন
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, ভর্তিযোগ্য আসনের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কম হওয়ায় এবারও একাদশ শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও বহু আসন খালি থেকেছে। বিশেষ করে গত বছর পাসের হার তুলনামূলক কম থাকায় খালি আসনের সংখ্যা আরও বেড়েছিল।
তবে এবার কত আসন শূন্য থাকবে, তা নির্ভর করবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ওপর। পাসের হার বেশি হলে খালি আসনের সংখ্যা কমবে, আর পাসের হার কম হলে শূন্য আসনের সংখ্যাও বাড়বে।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তি পরীক্ষা চালুর পরিবর্তে কেন্দ্রীয় অনলাইনভিত্তিক বর্তমান পদ্ধতি বহাল থাকায় ভর্তি কার্যক্রম দ্রুত, স্বচ্ছ ও সমন্বিতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্যও আগের মতোই সহজ ও একক প্ল্যাটফর্মে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।