ঢাকা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান: দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে ১১–দলীয় ঐক্যের পরিকল্পনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবং দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও জনজীবনের বিভিন্ন সংকটের সমাধানের দাবিতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্য। কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে গণসমাবেশ, সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা, স্মারকলিপি প্রদান এবং সারা দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

সোমবার রাতে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে এসব কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

৫ আগস্ট রাজধানীতে গণসমাবেশ

জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৫ আগস্ট সকাল ১০টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। এখান থেকেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেল–গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট, বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

একই দিনে দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও গণমিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করবে জোটের নেতাকর্মীরা।

৬ আগস্ট অবস্থান কর্মসূচি ও সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা

দুই দিনের কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে, ৬ আগস্ট, দেশের সব মহানগর ও জেলা শহরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

রাজধানীতে বেলা ১১টায় মুক্তাঙ্গনে ১১–দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

পরে সেখান থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করা হবে এবং সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।

জোটের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ নেতারা

শীর্ষ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান (মঞ্জু), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

এ ছাড়া বৈঠকে অংশ নেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।

সংকট মোকাবিলা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও জনজীবনের সংকট মোকাবিলা এবং জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবেই নতুন এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

জোটের নেতারা মনে করছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, তেল–গ্যাস–বিদ্যুতের সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সামনে এনে জনগণের সঙ্গে আরও বিস্তৃত সম্পৃক্ততা তৈরি করা সম্ভব হবে।

তাঁদের ভাষ্য, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমেই সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ১১–দলীয় ঐক্য। ৫ আগস্টের গণসমাবেশ থেকেই আন্দোলনের পরবর্তী ধাপের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স