ঢাকা

ডারউইনের নতুন চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ, বাতাস ও উইকেটই বড় পরীক্ষা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে প্রথম টেস্টকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। ম্যাচের ভেন্যু টিআইও স্টেডিয়ামের কাছেই অবস্থিত ডিএক্সসি অ্যারেনায় প্রথম দিনের অনুশীলন করেন ক্রিকেটাররা। সবুজ ঘাসে মোড়া অনুশীলন উইকেটের অতিরিক্ত বাউন্স নিয়ে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

প্রথম দিনের প্রস্তুতি শেষে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম জানান, অনুশীলনে ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং ও রানিং—সব দিকেই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হয়েছে।

আগস্টের শুরুতে ডারউইনের আবহাওয়া ধীরে ধীরে উষ্ণ হচ্ছে। দিনের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতা তুলনামূলক কম, যা বাংলাদেশের গরম আবহাওয়ার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন পরিবেশ তৈরি করছে।

দলের সব সদস্য পৌঁছে যাওয়ার পর পূর্ণ শক্তিতে অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা। টেস্ট সিরিজের আগে বাংলাদেশ একটি তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে, যা অনুষ্ঠিত হবে একই অনুশীলন ভেন্যুতে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়াও শক্তিশালী দল মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ‘অস্ট্রেলিয়া একাদশ’-এ কয়েকজন টেস্ট অভিজ্ঞ ক্রিকেটার থাকলেও তাঁরা মূল টেস্ট স্কোয়াডের অংশ নন।

এই সফরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দুটি অপরিচিত মাঠ। প্রথম টেস্ট হবে ডারউইনে, যেখানে সর্বশেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল দুই দশকেরও বেশি আগে। দ্বিতীয় টেস্ট হবে ম্যাকাইয়ে, যেখানে এবারই প্রথম টেস্ট আয়োজন করা হচ্ছে। ফলে দুই ভেন্যুই বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট—উভয়ের জন্যই অনেকটা নতুন অভিজ্ঞতা।

বাংলাদেশ দলে এমন দুজন ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁরা আগে ডারউইনের এই মাঠে টি–টোয়েন্টি খেলেছেন। ওপেনার তানজিদ হাসান ও পেসার হাসান মাহমুদের সেই অভিজ্ঞতা দলের কাজে লাগতে পারে।

টিম ম্যানেজমেন্ট সফরের আগে ভেন্যু নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেছে। তাদের ধারণা, এখানকার ড্রপ-ইন উইকেট ব্যাটার ও বোলার—দুই পক্ষের জন্যই সমান সুযোগ তৈরি করে। উইকেটে ভালো বাউন্স থাকে, বল স্বাভাবিকভাবে ব্যাটে আসে এবং অনুকূল পরিস্থিতিতে বড় স্কোরও দেখা যায়। তবে আবহাওয়া বেশি গরম হলে উইকেটে ফাটল তৈরি হতে পারে, যা স্পিনারদের জন্য বাড়তি সহায়তা এনে দিতে পারে।

গত বছর একই মাঠে অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের চার দিনের ম্যাচগুলোতেও প্রচুর রান হয়েছিল। একাধিক শতক ও বড় ইনিংস প্রমাণ করেছে, ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করলে এই উইকেটে দীর্ঘ সময় টিকে থাকা সম্ভব।

ডারউইনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো প্রবল বাতাস। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই অঞ্চলে বাতাসের প্রভাব বেশ বেশি থাকে। পাশাপাশি মাঠের আকারও তুলনামূলক বড়, বিশেষ করে স্কয়ার বাউন্ডারির দিকটি। তাই উইকেটের আচরণের পাশাপাশি বাতাসের গতিপ্রকৃতিও ম্যাচের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ দলও এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই প্রথম টেস্টের পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স