ঢাকা

সার্কভুক্ত দেশের মেধাবীদের জন্য বৃত্তি, ঘোষণা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্যভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি জানিয়েছেন, এ উদ্যোগের আওতায় বিশেষভাবে নেপালের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ধুমবারাহিতে অবস্থিত ন্যাশনাল কলেজে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, নীতিনির্ধারক এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সার্ক অঞ্চলে শিক্ষা সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ

বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুধু বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি জানান, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত আড়াই হাজারের বেশি কলেজে প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন এবং প্রায় ৫০টি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময় আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবে সদস্য দেশগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য পূর্ণ অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। বিশেষ করে নেপালের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ বিনা খরচে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন বলে তিনি জানান।

উপাচার্যের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণা এবং আন্তঃদেশীয় শিক্ষার্থী বিনিময় আরও সম্প্রসারিত করবে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান

সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে উপাচার্য দেশের বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির দিকেও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের অনেক শিক্ষার্থী মানসিক আঘাত ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন। এ বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা এখন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আধুনিক কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং দক্ষ মনোবিজ্ঞানী তৈরির বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত না করে টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

দেশে প্রয়োজন ৩০ হাজার সাইকোলজিস্ট

উপাচার্য বলেন, বর্তমানে দেশে কাউন্সেলিং, অ্যাপ্লাইড সাইকোলজি এবং সোশ্যাল সাইকোলজির ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট রয়েছে। বর্তমান চাহিদা পূরণে দেশে অন্তত ৩০ হাজার পেশাদার সাইকোলজিস্ট প্রয়োজন হলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র প্রায় ৩০০ জন।

এই ঘাটতি পূরণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে কাউন্সেলিং সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয়সংখ্যক দক্ষ মনোবিজ্ঞানী ও কাউন্সেলর তৈরিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত কাউন্সেলর নিয়োগ, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

কাঠমান্ডুর ন্যাশনাল কলেজে অনুষ্ঠিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সম্মেলনে সার্ক অঞ্চলে শিক্ষা, গবেষণা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অচ্যুত ওয়াগল এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম।

এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, গবেষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে অংশ নেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ চালুর এই উদ্যোগ আঞ্চলিক শিক্ষা সহযোগিতাকে নতুন মাত্রা দেবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স