রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য আগামী সোমবার দিন ধার্য করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হামিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে মামলার মূল নথি আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না হওয়ায় রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। এ কারণে আদালত আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে আগামী সোমবার রিমান্ড শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
বুধবার রাতে গুলশান থেকে গ্রেপ্তার
এর আগে বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানের একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মো. মাসুদুর রহমান আদালতে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে যা বলেছে পুলিশ
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মামলার ঘটনার সঙ্গে আখতারুজ্জামানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, ককটেল বোমার উৎস উদ্ঘাটন এবং মামলার ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এ কারণেই সাত দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুরের আবেদন করা হয়েছে।
যে মামলায় গ্রেপ্তার
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৮ জুন সকালে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন মহাখালী বাস টার্মিনাল-সংলগ্ন এলাকায় নিবাস মজুমদারসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ৩৫ থেকে ৪০ জন নেতা-কর্মী একটি মিছিল বের করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিছিল থেকে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। একই সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ঘটনার পর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা-পুলিশ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করে এবং তদন্ত শুরু করে।
রাজনৈতিক পরিচয়
আখতারুজ্জামান গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন এবং বিজয়ী হন।
এর আগে ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি গাজীপুর-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সোমবার রিমান্ড শুনানি
মামলার মূল নথি আদালতে উপস্থাপন না হওয়ায় আপাতত রিমান্ডের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী সোমবার আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুনানিতে আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করবেন কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
এদিকে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।