ঢাকা

ভারত কেন কিনছে মার্কিন ‘জ্যাভেলিন’, কীভাবে কাজ করে এই ক্ষেপণাস্ত্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার পথে এগোচ্ছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে মার্কিন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা ‘জ্যাভেলিন’ কেনার পরিকল্পনা করছে নয়াদিল্লি। যুদ্ধক্ষেত্রে সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য তৈরি এই ব্যবস্থা একজন সেনাসদস্য বহন ও পরিচালনা করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রটি নিজস্ব নির্দেশনাব্যবস্থার সাহায্যে লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করতে পারে।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সম্প্রতি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ভারত জ্যাভেলিন কেনার পরিকল্পনা করছে। তাঁর ভাষ্য, এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বড় ধরনের অগ্রগতি আনবে এবং ভবিষ্যতে যৌথ উৎপাদনের পথও খুলে দিতে পারে।

এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভারতের কাছে জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ওই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভেলিন ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা জানানো হয়েছিল। তবে ভারত শেষ পর্যন্ত ঠিক কতটি ব্যবস্থা কিনবে এবং এ জন্য কত অর্থ ব্যয় করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

ভারত–যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সম্পর্কে নতুন অগ্রগতি

সার্জিও গর তাঁর পোস্টে জ্যাভেলিনকে যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত একটি ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করেন। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত শাংরি-লা সংলাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর যে গুরুত্ব দিয়েছিলেন, জ্যাভেলিন কেনার পরিকল্পনাকে তারই বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

মার্কিন দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যাভেলিন ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ও মেরিন কোরে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীও এই ব্যবস্থা ব্যবহার করে।

সার্জিও গর বলেন, সম্ভাব্য এই চুক্তি দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় শুধু অস্ত্র কেনাবেচার মধ্যেই সম্পর্ক সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দুই দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও উৎপাদনভিত্তিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়তে পারে।

তবে চুক্তিটির আর্থিক ও পরিমাণগত বিষয় এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করা হয়নি। ভারতীয় কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

জ্যাভেলিন কী

জ্যাভেলিন মূলত একটি কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্স যৌথভাবে এটি তৈরি করে।

এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ ধরনের পরিচালনব্যবস্থা। অর্থাৎ লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের পর সেটিকে পুরো পথ ধরে একজন সেনাসদস্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না। নিজস্ব নির্দেশনাব্যবস্থার সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু অনুসরণ করে আঘাত হানতে পারে।

এই বৈশিষ্ট্যের কারণে জ্যাভেলিন পরিচালনাকারী সেনাসদস্যের জন্য বড় একটি কৌশলগত সুবিধা তৈরি হয়। ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর তিনি একই জায়গায় অবস্থান করে লক্ষ্যবস্তুর ফলাফল পর্যবেক্ষণ করতে বাধ্য নন। দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে শত্রুর সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণ এড়ানোর সুযোগ থাকে।

যুদ্ধক্ষেত্রে ট্যাংক বা সাঁজোয়া যান শনাক্ত করার পর দ্রুত আক্রমণ করে আবার অবস্থান বদলে ফেলার এই সক্ষমতা হালকা পদাতিক ইউনিটের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাংকের ওপরের অংশে আঘাত

জ্যাভেলিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর আক্রমণের ধরন। প্রচলিতভাবে ট্যাংকের সামনের বা পাশের অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী সুরক্ষিত অংশে আঘাত করার পরিবর্তে জ্যাভেলিন ওপরের দিক থেকে আঘাত করতে পারে।

ট্যাংকের ওপরের অংশ সাধারণত সামনের অংশের তুলনায় তুলনামূলক কম সুরক্ষিত। ফলে ওপর থেকে আঘাত করার সক্ষমতা সাঁজোয়া যান মোকাবিলায় এই ব্যবস্থাকে কার্যকর করে তোলে।

এ ধরনের আক্রমণকে সাধারণভাবে ‘টপ-অ্যাটাক’ বলা হয়। লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার পর ক্ষেপণাস্ত্রটি এমন গতিপথ নিতে পারে, যাতে ট্যাংকের ওপরের অংশে আঘাত হানে।

ট্যাংকের নকশায় ওপরের অংশ তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় এই ধরনের আক্রমণ সাঁজোয়া যান ধ্বংস বা অচল করে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দিতে পারে।

একজন সেনাসদস্যের জন্য বহনযোগ্য

জ্যাভেলিন ব্যবস্থার বড় সুবিধা হলো এটি তুলনামূলকভাবে হালকা ও বহনযোগ্য। একটি বড় যুদ্ধট্যাংক ধ্বংস করতে আলাদা ভারী কামান বা সাঁজোয়া যান ব্যবহার করার পরিবর্তে পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা এটি বহন করে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন।

এতে ট্যাংকবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক বেশি নমনীয় হয়। দুর্গম এলাকা, শহুরে যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা এমন জায়গা যেখানে ভারী সামরিক যান চলাচল কঠিন—সেখানেও এই ধরনের ব্যবস্থা ব্যবহার করা সম্ভব।

জ্যাভেলিনের নকশায় এমন ব্যবস্থাও রয়েছে, যার কারণে এটি ভবনের ভেতর বা তুলনামূলকভাবে আবদ্ধ অবস্থান থেকেও ব্যবহার করা যায়। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাসদস্যদের অবস্থান বাছাইয়ের সুযোগ বাড়ে।

তবে অস্ত্রটির কার্যকর ব্যবহার শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না। লক্ষ্য শনাক্তকরণ, পরিস্থিতি মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সঠিক সময়ে ব্যবহার—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

‘ফায়ার অ্যান্ড ফরগেট’ সক্ষমতা কেন গুরুত্বপূর্ণ

জ্যাভেলিনের স্বয়ংক্রিয় নির্দেশনাব্যবস্থা এর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি। সাধারণ কিছু ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে উৎক্ষেপণের পরও অপারেটরকে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরিচালনায় যুক্ত থাকতে হয়।

জ্যাভেলিনে সেই প্রয়োজন অনেকটাই কমে যায়। লক্ষ্যবস্তুকে লক করার পর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলে এর নিজস্ব নির্দেশনাব্যবস্থা লক্ষ্য অনুসরণ করতে পারে।

এর ফলে অপারেটরের সামনে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হয়। শত্রুপক্ষ যদি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের স্থান শনাক্তও করে ফেলে, ততক্ষণে অপারেটর অন্য অবস্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা ও সেন্সরের মাধ্যমে খুব দ্রুত কোনো অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব, সেখানে ‘শুট অ্যান্ড মুভ’ বা আঘাত করে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সক্ষমতা পদাতিক বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারতের সামরিক বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক সাঁজোয়া যান ও ট্যাংক রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে। ফলে ট্যাংকবিরোধী সক্ষমতা ভারতের স্থলবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভারত এর আগে বিভিন্ন ধরনের দেশীয় ও বিদেশি ট্যাংকবিধ্বংসী ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে দেশীয়ভাবে তৈরি নাগ ও হেলিনা ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থাও রয়েছে। এর পাশাপাশি বিদেশি প্রযুক্তি ও অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে চলেছে নয়াদিল্লি।

এই প্রেক্ষাপটে জ্যাভেলিন যুক্ত হলে ভারতের পদাতিক ইউনিটের হাতে একটি আধুনিক, বহনযোগ্য এবং তুলনামূলকভাবে দ্রুত ব্যবহারযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী ব্যবস্থা যুক্ত হবে।

বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম সীমান্ত এলাকায় ভারী সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের তুলনায় একজন বা ছোট একটি ইউনিটের বহনযোগ্য ট্যাংকবিধ্বংসী ব্যবস্থা দ্রুত স্থানান্তর করা তুলনামূলক সহজ।

যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনাও গুরুত্বপূর্ণ

জ্যাভেলিন কেনার বিষয়টি শুধু অস্ত্র আমদানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও এসেছে।

ভারত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ নীতির আওতায় দেশটি বিদেশি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রযুক্তি ও উৎপাদন সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ফলে জ্যাভেলিনের সম্ভাব্য চুক্তিতে যৌথ উৎপাদন বা স্থানীয়ভাবে কিছু অংশ তৈরির সুযোগ তৈরি হলে তা ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

এতে শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সম্ভাব্য চুক্তির আকার

২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ভারতের কাছে প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল। সম্ভাব্য ওই বিক্রয়প্যাকেজে সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভেলিন ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হয়েছিল।

তবে অনুমোদন পাওয়া এবং চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয়। ফলে ভারত শেষ পর্যন্ত কতটি ব্যবস্থা কিনবে এবং চুক্তির চূড়ান্ত মূল্য কত হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের আলোচনার ওপর।

এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত ক্রয়সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ভারতের বাড়ছে মার্কিন অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা

জ্যাভেলিন কেনার পরিকল্পনা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আরও একটি উদাহরণ। গত দুই দশকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে।

ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে মার্কিন তৈরি বিভিন্ন বিমান, হেলিকপ্টার, নজরদারি ও পরিবহন সরঞ্জাম ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে জ্যাভেলিন যুক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়বে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ভারতকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। দুই দেশের সামরিক মহড়ার সংখ্যা বেড়েছে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার ক্ষেত্রও বিস্তৃত হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম বড় অস্ত্র আমদানিকারক ভারত

স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, সামরিক ব্যয়ের দিক থেকে ভারত বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি। অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও দেশটির অবস্থান উল্লেখযোগ্য।

সিপ্রির তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের পর ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অস্ত্র আমদানিকারক দেশ। দেশটির বিশাল সেনাবাহিনী, দীর্ঘ সীমান্ত এবং একই সঙ্গে একাধিক ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের চাহিদা দীর্ঘদিন ধরেই বেশি।

তবে ভারত একই সঙ্গে বিদেশি অস্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ফলে জ্যাভেলিনের মতো বিদেশি অস্ত্র কেনার সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনের সম্ভাবনা যুক্ত হওয়া নয়াদিল্লির বৃহত্তর প্রতিরক্ষা শিল্পনীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সব মিলিয়ে জ্যাভেলিন কেনার পরিকল্পনা ভারতের হাতে শুধু একটি নতুন ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা যোগ করার ঘটনা নয়। এর মাধ্যমে পদাতিক বাহিনীর সাঁজোয়া যান মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পরিধিও আরও বিস্তৃত হতে পারে। আর সম্ভাব্য যৌথ উৎপাদন বাস্তবায়িত হলে এর প্রভাব অস্ত্র কেনার বাইরেও ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর পড়তে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স