ঢাকা

ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট, বলছে বিভিন্ন মহল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রয়টার্স | ওয়াশিংটন

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আলোচিত ভাষণ, ইরান যুদ্ধ নিয়ে কঠোর অবস্থান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক—এক সপ্তাহে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের প্রভাব আবারও তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে এসব তৎপরতার পরও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে ট্রাম্পের সামনে থাকা বড় সমস্যাগুলো খুব একটা কমেনি বলে মনে করছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দেশের ভেতরে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় চাপ, মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং চীনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও বাণিজ্য নিয়ে প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির সামনে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন সংকট নিয়ে অন্য দেশগুলোর ভিন্ন অবস্থান। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রভাব ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও এই পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

জাতিসংঘের ভাষণে কঠোর বার্তা

গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প তাঁর পররাষ্ট্রনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর তাঁর প্রশাসন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে, তাঁর বক্তব্যে তার প্রতিফলন দেখা যায়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরানকে একটি চুক্তিতে রাজি হতে হবে, না হলে দেশটিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়া হতে পারে।

তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের সদস্য ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধেও নিজের কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘বিজয়ীরাই লুটের মালের অধিকার পায়।’

আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করেননি। বরং তাঁর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত ছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতেও নিজের স্বার্থ রক্ষায় সামরিক শক্তি ব্যবহারের পথ খোলা রাখছে।

সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভিন্ন চিত্র

জাতিসংঘে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বৈঠকটি ছিল জাঁকজমকপূর্ণ এবং আনুষ্ঠানিকতায় ভরপুর। তবে এআই, বাণিজ্য, তাইওয়ান ও ইরানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি।

দুই নেতার বৈঠকের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফলাফল ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে সমঝোতার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো। আগের সমঝোতার মেয়াদ নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

চীনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প প্রকাশ্যে দুই দেশের মতপার্থক্যের বিষয়গুলো সামনে আনতে খুব একটা আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, সি চিন পিং বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।

তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোর একটি। বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে, আর তাইওয়ান নিজস্ব গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় পরিচালিত।

এআই ও বাণিজ্যেও প্রতিযোগিতা

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিযোগিতা এখন শুধু বাণিজ্য বা সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, প্রযুক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহব্যবস্থাও দুই দেশের সম্পর্কের কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প আগে শুল্ককে চীনের ওপর চাপ তৈরির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু চীনের হাতে থাকা বিরল খনিজের ওপর নির্ভরতা যুক্তরাষ্ট্রের সেই কৌশলকে জটিল করে তুলেছে। প্রযুক্তি ও গাড়ি উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে এসব খনিজ কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেইজিং প্রয়োজন হলে এসব খনিজের সরবরাহ সীমিত করার সক্ষমতাও দেখিয়েছে।

ফলে চীনের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি সমঝোতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে এ পরিস্থিতিকে দুই দেশের শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তনের একটি দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

‘ট্রাম্পের বিরোধিতা করার সাহস বাড়ছে’

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বর্তমানে কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিচুয়েশন রুমের প্রধান ব্রেট ব্রুয়েন রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিশ্বে ফিরিয়ে নিতে চাইছেন, যেখানে শক্তিকে ক্ষমতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তির মুখে ট্রাম্পের অবস্থানের পরিবর্তন লক্ষ করার মতো।

ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমারও ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এক বছর আগে খুব কম দেশই ট্রাম্পের বিরোধিতা করার সাহস পেত। এখন কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়াসহ আরও অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অবস্থানের বিরোধিতা করতে প্রস্তুত।

তবে এসব বিশ্লেষণের বিপরীতে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি বাধার মুখে পড়েছে—এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেন, জাতিসংঘে ট্রাম্পের বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর প্রশাসনের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখার বিষয়টিও রয়েছে।

ইরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।

ইরান যুদ্ধই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

ট্রাম্পের পুরো কূটনৈতিক সপ্তাহজুড়েই ইরান যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে বড় ছায়া। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাত এখনো শেষ হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থায় চাপ তৈরি করেছে।

ইরান সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও ট্রাম্পের চাপের কাছে পুরোপুরি নতি স্বীকার করেনি। ফলে ইরানের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানে সামরিক অভিযানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘আমেরিকা ইজ ব্যাক’। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী।

মিত্রদের মধ্যেও মতভেদ

ইরান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ইউরোপীয় ও এশীয় মিত্রের অবস্থানও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলেনি। যুদ্ধ শুরু করার আগে তাঁদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করা হয়নি—এমন অসন্তোষও রয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে কয়েকজন বিশ্বনেতা পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মধ্যে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁও রয়েছেন।

মাখোঁ বিশ্বে ‘জঙ্গলের আইন’ ফিরে আসার বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, দেশগুলো এমন এক সময়ের মুখোমুখি, যেখানে শক্তি ও জবরদস্তি নিয়ন্ত্রণের ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে। এর বিপরীতে একটি ‘সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজ’ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাও পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি তাঁর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন এবং বলেন, অপরাধে অর্থ ও অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধ করতে সহযোগিতা প্রয়োজন; এ জন্য তাঁর দেশের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরি প্রয়োজন নেই।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ট্রাম্প প্রকাশ্যে কিছু দেখানোর চেয়ে ফলাফল অর্জনের দিকে বেশি মনোযোগী। তাঁর দাবি, বিশ্বনেতারা প্রকাশ্যে যে অবস্থান নেন, ব্যক্তিগত বৈঠকে তাঁদের বক্তব্য সব সময় তার সঙ্গে মেলে না।

ইউক্রেন যুদ্ধেও সীমিত অগ্রগতি

ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠার আরেকটি ক্ষেত্র ইউক্রেন যুদ্ধ। তিনি ইউক্রেন ও রাশিয়াকে অন্তত সীমিত পরিসরে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এ উদ্যোগ এখনো বড় কোনো অগ্রগতিতে পৌঁছায়নি।

গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা গেছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে এমন একটি চুক্তির কথা সামনে এসেছে, যার আওতায় বিশাল এই আর্কটিক দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে।

এটি ট্রাম্পের আগের অবস্থানের তুলনায় ভিন্ন। এর আগে তিনি গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এবং প্রয়োজনে ন্যাটোর সদস্য ডেনমার্কের কাছ থেকে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব চাপের পাশাপাশি আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে সামনে রয়েছে।

এই নির্বাচনে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন এলে প্রেসিডেন্টের নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়নের রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্য, ইউক্রেন, চীন এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিষয়ে ট্রাম্পের প্রশাসন কীভাবে এগোয়, তা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়ে উঠছে।

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার এমন একটি সময়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে, যখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রভাব কমতে শুরু করতে পারে। তবে তখনো ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হতে দুই বছরের বেশি সময় বাকি থাকবে।

‘আমার আদৌ কোনো ক্ষমতা আছে কি না’

জাতিসংঘে নিজের ভাষণের শেষদিকে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও কথা বলেন। এআইকে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ হিসেবে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করার ইচ্ছার কথা জানান তিনি।

একপর্যায়ে নিজের ক্ষমতার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, ‘দেখা যাক আমার আদৌ কোনো ক্ষমতা আছে কি না। হয়তো আছে, আবার হয়তো নেই। খুব জলদিই আমরা তা জানতে পারব।’

এই বক্তব্য তাঁর সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার একটি প্রতীকী সমাপ্তি হয়ে উঠেছে। একদিকে জাতিসংঘে সামরিক শক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবের দৃঢ় বার্তা, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে আলোচনায় সীমিত ফলাফল, ইরান যুদ্ধের অচলাবস্থা, মিত্রদের ভিন্নমত এবং ইউক্রেন সংকটে সীমিত অগ্রগতি—সব মিলিয়ে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পররাষ্ট্রনীতির সামনে যে বাস্তব সীমাবদ্ধতাগুলো রয়েছে, তা গত এক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহে নতুন করে দৃশ্যমান হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স