ঢাকা

সরকারের বিরুদ্ধে হাসনাত কাইয়ূমের অভিযোগ, ‘মনে হয় দেশে কোনো সরকার নেই’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। রোববার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক দখলবাজি ও হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ জানান।

পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানীতে একের পর এক দখল ও হামলার ঘটনায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘দখলবাজির চূড়ান্তপনা দেখে মনে হয় যেন দেশে কোনো সরকার নেই, অথবা সরকার আছে কেবল দখলবাজদের পক্ষে। সাধারণ মানুষের পক্ষে না।’

তিনি বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি এমন একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে স্বল্প আয়ের মা ও শিশুরা চিকিৎসা ও টিকা নিতে আসতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভেঙে ফেলা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ভূমিকা দেখা যায়নি।

‘এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়’

হাসনাত কাইয়ূম সাম্প্রতিক আরও কয়েকটি ঘটনার সঙ্গে মিরপুরের ঘটনাটিকে মিলিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

তিনি দাবি করেন, এর আগের দিন রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কনটেন্ট নির্মাতা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওসহ কয়েকটি স্থাপনায় রাতের অন্ধকারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

হাসনাত কাইয়ূম বলেন, পরপর এসব ঘটনা রাজধানীতে দখলবাজ চক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি সামনে আনছে। তাঁর অভিযোগ, ‘সরকার, প্রশাসন তাদের ফ্যাসিলিটেইট (সহায়তা) করছেন।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন।

তিনি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে এবং এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আদালতসহ যথাযথ আইনি ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু কোনো বিরোধের জেরে রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদ উদ্দীন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, তার সমাধান হওয়ার কথা আদালতে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে দলবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া আর তা প্রতিরোধে পুলিশের ব্যর্থতা দেখে মনে হয়, এই রাষ্ট্রে আইন, কানুন, প্রশাসন, সরকার বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই।’

চার দফা দাবি

রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দর পরিদর্শন শেষে জেএসডি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে যৌথভাবে চার দফা দাবি জানানো হয়।

তাদের দাবিগুলো হলো—

১. রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ সাম্প্রতিক সব দখলবাজি ও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

২. ঘটনাস্থলে পুলিশের দায়িত্ব পালনে অবহেলার যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে তদন্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

৩. রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যবসায়িক বা ব্যক্তিগত বিরোধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নয়, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জোরদার করা।

৪. হামলা ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে দিয়ে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া।

স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

নেতারা বলেন, কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর বা দখলের ঘটনায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ক্ষতি হয় না; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগী ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হয়।

বিশেষ করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে স্বল্প আয়ের মা ও শিশুরা চিকিৎসা ও টিকা নিতে আসতেন বলে উল্লেখ করে তাঁরা দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্ব দেন।

তাঁদের মতে, বিরোধ বা মালিকানা-সংক্রান্ত কোনো দাবি থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো পক্ষ যাতে বলপ্রয়োগ করে স্থাপনা দখল, ভাঙচুর বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

পরিদর্শনে দুই দলের নেতারা

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় জেএসডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন পাটোয়ারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান ও প্রচার সম্পাদক বোরহান উদ্দিন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাহাবুদ্দিন কবিরাজ লিটন, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ইবনুল সাঈদ, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীবিষয়ক সম্পাদক শেখ নাসিরউদ্দিন ও দপ্তর সম্পাদক ছামিউল আলমও পরিদর্শনে অংশ নেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্র সংস্কার সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আহ্বায়ক আবুল হোসেনসহ সংগঠন দুটির আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে দ্রুত স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স