ঢাকা

স্টুডিও-স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা: বিএনপির কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ গণসংহতির

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও এবং মিরপুরের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলন।

দলটির অভিযোগ, দুই জায়গাতেই সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। রাজধানীতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছে দলটি। একই সঙ্গে দুটি ঘটনায় বিএনপির কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে গণসংহতি আন্দোলন বলেছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি জানান গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ ও নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান। তাঁদের পক্ষে বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান দলের ডিজিটাল ও গণমাধ্যমবিষয়ক সম্পাদক তাহসিন মাহমুদ।

দুই ঘটনায় বিএনপির কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ

বিবৃতিতে গণসংহতির নেতারা বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও—দুই জায়গাতেই একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে আক্রমণ চালিয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কর্মীদের যুক্ত থাকার অভিযোগ ইতিমধ্যে উঠেছে বলে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় না দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

তবে এটি গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগ। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে জমি নিয়ে বিরোধের কথা জানিয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে। ফলে হামলার সঙ্গে কারা কীভাবে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারণ করার বিষয়।

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির নিজেও হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান দাবি করেছেন, ঘটনাটিতে বিএনপির রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই।

রাড্ডা সেন্টারে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

রাড্ডা এমসিএইচ–এফপি সেন্টারে হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকার পরও কেন কাউকে আটক করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গণসংহতি আন্দোলন।

বিবৃতিতে দলটি দাবি করে, হামলার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা হয়নি। পরে কয়েকজন ভাসমান ব্যক্তিকে আটক করা হলেও হামলার নির্দেশদাতা এবং পুলিশের গাফিলতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের এখনো চিহ্নিত করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

গণসংহতির নেতারা বলেন, ঘটনাটির সঙ্গে শুধু হামলাকারীদের ভূমিকা নয়, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনতে হবে। হামলার সময় পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এসব প্রশ্নের জবাবও দিতে হবে।

সালমানের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় তদন্ত দাবি

ইসিবি চত্বরের নিউগিনি প্রপার্টিজে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ‘ব্রাউনফিশ’-এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাতেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে গণসংহতি আন্দোলন।

২৭ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সালমানের স্টুডিও নয়, ওই আবাসন প্রকল্পের অফিসসহ আশপাশের আরও কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে।

গণসংহতি আন্দোলন বলেছে, হামলার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা রয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করতে হবে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে দলটি।

পুলিশের জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবি

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে গণসংহতি আন্দোলন। দলটির নেতারা বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সংঘবদ্ধ হামলা ঠেকাতে পুলিশের সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

বিবৃতিতে পুলিশের ব্যর্থতার দায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনে কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

গণসংহতির নেতারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই যদি কোনো স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, তাহলে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি থাকা জরুরি।

দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি

গণসংহতি আন্দোলনের বিবৃতিতে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

দলটির ভাষ্য, রাজধানীতে সংঘবদ্ধ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শুধু তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজনকে আটক বা গ্রেপ্তার করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। হামলার পরিকল্পনা, নির্দেশনা, অর্থায়ন বা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সহযোগিতার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদেরও শনাক্ত করতে হবে।

একই সঙ্গে হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা, দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং অভিযোগ ওঠা রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সত্যতা—সবকিছুই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

গণসংহতি আন্দোলনের মতে, দুটি ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়াই এ ধরনের ঘটনায় জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর করার জন্য প্রয়োজন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স